১৫ জানুয়ারি ২০১৯

কামরুল ইসলাম মাহি (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেটে শুরুর দিকে বেশ সাড়া পেয়েছিল স্বেচ্ছসেবী কার্যক্রম ‘মানবতার দেয়াল’। তবে এখন সাড়া পাচ্ছে না এই উদ্যোগটি। নগরের বেশ কিছু স্থানে এই দেয়াল থাকলেও খালি পড়ে থাকতে দেখা যায় দেয়ালটিকে। একটি জায়গায় মানবতার দেয়ালকে আড়াল করে গড়ে উঠে ভ্রাম্যমান দোকান। তবে মানবতার সেবায় গড়ে উঠা এই দেয়াল থেকে নগরবাসীর দূরত্ব তৈরি হওয়ায় অনেকটা আশাহত স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের। তাদের প্রত্যাশা মানবতার সেবায় সকলেই দ্রুত এগিয়ে আসবেন এই দেয়ালের মাধ্যমে।
দেশে এখন শীতের আবহাওয়া। এই আবহাওয়ার সঙ্গে রয়েছে চিরায়ত একটি দৃশ্য। সেটি হল রাস্তাঘাট, ফুটপাত আর বিভিন্ন সেতুর নিচে অসহায় মানুষ পরস্পরের উত্তাপ নিয়ে রাত্রিযাপন। শীতের কামড় থেকে এইসব মানুষকে রক্ষা করতে গরম কাপড় ও নৈশ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। তাই আকাশকে চাঁদর বানিয়েই গরিব মানুষের রাত্রিযাপন সড়কে। আর এসব মানুষকে শীতের কামড় থেকে রক্ষা করতে একঝাঁক মহৎ মানুষ নিয়েছিলেন ‘মানবতার দেয়াল’ নামে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের একটি উদ্যোগ।
রাজধানী থেকে এই উদ্যোগ শুরু হলেও মুহুর্তের মধ্যেই সেটির রেশ গিয়ে পড়ে গোটা বাংলাদেশে। আর সেই রেশে মানুষের কিঞ্চিত উপকারে আসার লক্ষ্যে সিলেটের মহৎ উদ্যোগীরা এগিয়ে এসে নগরের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করেন ‘মানবতার দেয়াল’। সেই দেয়ালের কাজটি হচ্ছে নিজেদের অব্যবহৃত কাপড়গুলো সেখানে টানিয়ে দেওয়া। আর যাদের দরকার সেখান থেকে সেগুলো নিয়ে যাওয়া। শুরুতে সাড়াও মিলেছে স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমটির।
তবে এই উদ্যোগটি শুরু হলেও সিলেটে শীত শুরু হওয়ার পর তেমন একটা সাড়া পাচ্ছে না মহতী এই উদ্যোগটি। সিলেট নগরের পাঁচটি মানবতার দেয়ালে টানানো হেঙ্গারগুলো সবসময় খালিই পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের মতে, দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। যার ফলে বস্ত্রদানের এই কর্মসূচি থেকে নগরবাসীর দূরত্বটা বেড়ে গেছে।
তবে ব্যস্ততা ভুলে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে নগরবাসী দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের অনেকের।
তাদের মতে, সারা দেশের পাড়া মহল্লা তরুণেরা একটি করে ‘মানবতার দেয়াল’ গড়ে তোলে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিলে গরিব লোকজনের ততটা কষ্টে পড়তে হবে না। বিশেষ করে শীতে এটা তাদের অনেক উপকারে আসবে। এতেই আত্মতৃপ্তি বাড়বে সকলের।
সিলেট মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক সভাপতি অলিউর রহমান সামি বলেন, নির্বাচনের কারণে মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছিল। তাই এই মহৎ উদ্যোগ থেকে অনেকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি আগের মত দ্রুত অসহায়ের সেবায় সকলেই এগিয়ে আসবেন।
এই সংগঠক জানান, সিলেট নগরীতে ২৫টি মানবতার দেয়াল তৈরীর কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট নগরের পাঁচটি স্থানে এই স্বেচ্ছাসেবার কার্যক্রমটির জন্য ‘মানবতার দেয়াল’ তৈরি করা হয়েছে।
এই দেয়ালের কাজটি হচ্ছে, দেয়ালের এক পাশে বিত্তবানেরা তাঁদের অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যেতে পারবেন। অন্যপাশ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যেতে পারবেন সুবিধাবঞ্চিতরা।
সিলেট নগরের চৌহাট্টা, টিলাগড়, আম্বরখানা, মিরের ময়দান, শেখঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মানবতার দেয়াল তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এসময় অনেকেই স্বেচ্ছায় সেখানে বিভিন্ন জিনিস রেখে যান।
দীর্ঘদিন থেকে সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন যুব সংগঠক মুহাম্মদ এহসানুল হক তাহের।
তিনি মনে করেন, কোনো উদ্যোগ শুরু হলে প্রথমে সেটির প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে। পরবর্তী সময়ে সেটি থেমে গিয়ে উদ্যোগটি বাঁধাগ্রস্থ হয়। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে সুন্দর একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন এই সংগঠক।
তিনি বলেন, মানুষ সব সময় নতুনত্বকে ভালবাসে। একটা বিষয় পুরাতন হলেই মানুষ এর কথা ভুলে যায়। সব বিষয়েই প্রথমে একটা কৌতহলী সড়া পাওয়া যায়। তবে ধাপে ধাপে এর আগ্রহ ও ব্যাপকতা কমে আসে। আমি মনে করি এটি এরই একটি প্রতিফলন।
তবে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটিকে ভেস্তে যাওয়া থেকে আটকিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এই সংগঠক।
এই সংগঠকের সঙ্গে একমত পোষন করে সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা বলেন, মানবতার দেয়াল এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই আর্থমানবতার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিৎ।