১২ জানুয়ারি ২০১৯

অতিথি প্রতিবেদক : নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার এখন ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার সিলেট- কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তর শুরুর সাথে সাথে কারাগারের প্রধান ফটকে সাটানো হয় একটি ব্যানার। যাতে লেখা রয়েছে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার যেমন আছে, তেমনই থাকছে। এখানেও কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি বলেন, পুরনো কারাগারকে ‘গ্রিণ পার্ক’ করার ব্যাপারে সদ্য প্রাক্তণ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডিও লেটার (ডেমি অফিস লেটার-আধা সরকারিপত্র) প্রেরণ করলেও প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দেননি।
তিনি বলেন, সিলেটসহ দেশে ৫টি পুরাতন কারাগারে নতুন জনবল ও অফিস সরঞ্জামাদির অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণে একটি কমিটি করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়ার পর পুরাতন কারাগারে বন্দি রাখা হবে। সিলেটে কেন্দ্রীয় কারাগারের পদ ৪৫৫টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৯৯জন। জনবল সৃজনের পর দুটি কারাগারই যথারীতি চলবে।
তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনের স্বাক্ষরে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কারা অধিদপ্তর। ওই স্মারকে (নম্বর ৫৮.০৪.০০০০.০২২.১২.০৪০.১৮-৭৭৯) উল্লেখ করা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দিদের বর্তমান সংখ্যাধিক্য, ক্রমবর্ধমান বন্দি সংখ্যা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত অনুশাসন অনুযায়ী কারা বন্দিদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে কারাগারসমূহকে সংশোধনাগার করার জন্য সদাশয় সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ কারা-১ শাখার প্রজ্ঞাপনে সিলেট, ফেনী, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও কিশোরগঞ্জ কেন্দ্রীয়/জেলা কারাগার নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ৫টি কারাগারে নতুন জনবল সৃজন ও অফিস সরঞ্জামাদির জন্য একটি কমিটি গঠনও করে দেয়া হয়।’
এদিকে, সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিলো বন্দি স্থানান্তরের পর পুরনো কারাগারটিকে ‘গ্রিণ পার্ক’ করার। সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পার্ক নিয়ে পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।
২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকায় অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের কৃতীসন্তান ও সিলেট-১ আসনের এমপি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তৎকালীন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ছাড়াও বৈঠকে সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থলে একটি ‘গ্রিণ পার্ক’ গড়ে তোলা হবে। সেখানে পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা সংরক্ষণের মাধ্যমে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, কালচারাল সেন্টার, শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে সিলেট সফরে এসেও গ্রিণ পার্ক গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিলেন সদ্য প্রাক্তণ অর্থমন্ত্রী মুহিত । পার্ক করার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটারও দিয়েছিলেন। তবে, সকল উদ্যোগ ভেস্তে যায় কারা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনার পর।