৮ জানুয়ারি ২০১৯


বাইক্কা বিলে এসে হতাশ পর্যটরা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : শীতকাল এলেই অতিথি পাখির আনাগোনা বেড়ে যায়। পাখিরা দূর দূরান্ত থেকে পাড়ি জমায় বিভিন্ন বিলে। আর তেমনই এক বিল বাইক্কা বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ বিল। এ বিল ও নানা প্রজাতির পাখি দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শীতকালে ছুটে আসতেন অনেক পর্যটকরা।

শীতকালীন ছুটির মতো করে পর্যটকদের সাথে গড়ে উঠত পাখি ও পর্যটকদের মধ্যে সখ্যতা। এই সময় বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের এই বাইক্কা বিলে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কারণে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আর অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। আর এ বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে যারা আসছেন তারাও ফিরছেন অনেকটা হতাশা নিয়েই।

ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, গত কয়েক বছর আগে এখানে এসে অনেক পাখি দেখেছিলাম। কিন্তু বছর তিন এক পরে এসে দেখলাম পাখির সংখ্যা একবারেই কম। এখানে আসার উদ্দেশ্যই পাখি দেখা। এসে দেখি শুধু পানি কোনো পাখি নেই। পাখি দেখতে না পেরে অনেকটা হতাশ হয়েছি।

সেইভ আওয়ার আনপ্রটেক্ট লাইফ (সউল)-এর নির্বাহী পরিচালক তানিয়া খান বলেন, বাইক্কা বিল অভায়শ্রমের কচুরি পানা, নলখাগড়া ইণ্যাদি হচ্ছে পাখিদের খাবার ও আশ্রয়স্থল। পাখিরা এগুলো খায় এখানেই ঘুমায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছুদিন পর পর বিল পরিষ্কারের নামে এগুলো অপসারণ করা হয়। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকটের কারণেই মূলত পাখিরা এখানে আসা কমিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া বিলের পাশে কিছু ফিশারিজ তৈরি করায় এবং লোকজনের নিয়মিত আনাগোনা থাকায় পাখিরা ভীত হচ্ছে। এটাও পাখিদের কমে যাওয়ার একটি কারণ

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পাখিদের অভায়শ্রমের মুল স্বরূপ ধরে রাখার ক্ষেত্রে যে যে প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো অপসারণে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তাছাড়া পাখি শিকারিদের দৌড়াত্ম্য রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন