৮ জানুয়ারি ২০১৯

লোকমান হাফিজ : রাত ১১টা। আম্বরখানা পয়েন্টে ভিক্ষা করছিল ৯ বছরের পথশিশু এমরান। এই কনকনে শীতের রাতে এই ছোট্ট শিশুটির রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করার দৃশ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। পিতা-মাতা হারা এই শিশুটির মাথাগুজার ঠাঁই না থাকলেও রয়েছে বুক ভরা স্বপ্ন। দেশের সেনাবাহিনীর প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা তাকে আকৃষ্ট করেছে। তার স্বপ্ন, বড় হয়ে সেনা অফিসার হয়ে দেশের সেবা করা। কিন্তু এই নিষ্ঠুর সমাজ কি তার স্বপ্ন পুরণ হতে দেবে?
জানা যায়, তার পুরো নাম এমরান আহমদ। নগরীর বাদাম বাগীচা এলাকায় নানীর সাথে একটি কলোনীতে বসবাস করে। বয়স নয় বছর। তার পিতা জাকির হুসেন এবং মাতা রুয়েলা বেগম তাকে ছেড়ে অনেক আগেই পরপারে পাড়ি জমান। এমরান পৃথিবীর আলো দেখার পরই তার মা চলে যান না ফেরার দেশে। এর কিছু দিন পর তার বাবা-ও চলে যান মা’র কাছে। এর পর এমরানের বড় ভাই তাকে নিয়ে চলে আসেন নানীর আশ্রয়ে। রিক্সা চালক ভাইয়ের পক্ষে এমরানকে লেখাপড়া করানো সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে তৃৃতীয় শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়ে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। এমরানের বড়ভাই ১৪ বছর বয়সি কামরানের পক্ষে তাকে লেখাপড়া করানো সম্ভব হয়নি। এখন তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে স্কুল ড্রেস আর খাতা-কলম কেনার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছে এমরান।
চলতি শিক্ষাবর্ষে বাদামবাগিচায় অবস্থিত পথশিশুদের আনন্দ স্কুলে ভর্তি হওয়া এমরানের স্বপ্ন কি পুরণ হবে?