২ জানুয়ারি ২০১৯

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: নির্বাচনের সময় আটক হওয়া কারাবন্দি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও সাবেক এমপি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি এম. নাসের রহমান। মঙ্গলবার সকাল ও দুপুরে পৃথকভাবে এই দুই নেতা তাদের নির্বাচনী এলাকার কারাবন্দি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন।
সকালে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের পুত্র এম নাসের রহমান তার নির্বাচনী এলাকার আটক হওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন।
এ সময় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী ও কারাবন্দিদের স্বজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে হারিনি ভোট চুরি করে আমাদের হারানো হয়েছে। ভোটের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আটক করে কারাগার ভরে ফেলা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। ভোটের দিন ও আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সরকারদলীয় লোকজন জালভোট দিয়ে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, বিচারের ভার আল্লাহর হাতে দিয়ে ধৈর্য ধরেন। একদিন এদেশেই এদের বিচার করবে জনগণ।
অপরদিকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জাতীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ দুপুরের দিকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আসেন। নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার সময় কারাফটকে উপস্থিত নেতাকর্মী ও কারাবন্দিদের স্বজনদের সান্তনা দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে আপনারা এই অন্যায় ও জুলুমবাজির জবাব দিয়েছেন। আমি বিজয়ী হওয়ার পরও আনন্দ মিছিল করিনি কারণ আমার প্রাণপ্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিথ্যা, সাজানো ও গায়েবি মামলায় কারাগারে। ধৈর্য ধরেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা তাদের শিগগিরই মুক্ত করবো ইন্শাআল্লাহ।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, আমার এই বিজয় আপনাদের। আমার প্রাণপ্রিয় কুলাউড়াবাসী ও কারাবন্দি নির্যাতিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য এ বিজয় উৎসর্গ করলাম। এই দুই নেতার কারাগারে আসার খবর জানতে পেরে কারাফটকের বাইরে নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই উপজেলাসহ জেলার ৭ উপজেলায় তাদের বেশ কয়েকশ’ নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছেন।