১ জানুয়ারি ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত বছরের পহেলা জানুয়ারি নগরীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রাণ হারান মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমু। কিন্তু এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের এক বছর অতিবাহিত হলেও আজো অধরা শিমুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মুল খুনিরা।
শিমু হত্যাকান্ডের এক বছর পরও রহস্যজনভাবে এখন মামলার প্রধান আসামীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করতে পারছেনো পুলিশ। আসামীদের মধ্যে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার ও ২/৩ জন আত্মসমর্পণ করলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সুক্রয় রয়েছেন। আর এতে শিমু হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
গত বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালীতে নিজ দলের ক্যাডারদের ছুরিকাঘাতে খুন হন শিমু। ঘটনার দুদিন পর এ ঘটনায় মামলা হলেও তদন্ত শেষে ৯ মাস পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ৯ জনের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করে। পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর পুনরায় নতুন একজনের নাম যুক্ত করে চার্জশিটে ১০ আসামির নাম উল্লেখ করে। এরা সবাই সিলেট মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এক আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছিলো। আরো ২-৩ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও বর্তমানে সবাই জামিনে মুক্ত আছেন। তবে মূল আসামী নাবিন রাজাসহ অন্যান্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় অনেকটা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের।
মামলার বাদি শিমুর মামা তারেক লস্কর জানান, মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশ প্রশাসনের গাফলতি রয়েছে। একটি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা ভাবতেই অবাক লাগে। এছাড়া মামলার আসামীরা বিভিন্ন সময়ে শিমুর পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
তিনি আরো জানান, শিমু একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলো। তবে তার হত্যাকান্ডের পর তার দলের হাতেগোনা ২-১ জন নেতাকর্মী ছাড়া কেউ কোন খোজখবর নেননি।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, নিহত আবুল হাসনাত শিমু বিএনপির বদরুজ্জামান সেলিম গ্রুপের কর্মী। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নাবিল রাজা চৌধুরীসহ অন্য আসামীদের সাথে শিমুর বিরোধ ছিল। এরই জেরে গত বছরের ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় কোর্টপয়েন্টে কালেক্টরেট মসজিদের সামনে পাকা রাস্তায় শিমুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কাজী মেরাজ। তিনি শিমুর দুই হাত ধরে রাখেন। আর নাবিল রাজা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় অন্য আসামীরাও শিমুকে লাঠিসোটা দিয়ে মারাত্মকভাবে মারধোর করে। পরে তাকে মেডিকেল নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
আদালতে দেয়া মামলাটির চার্জশিটে নাম উল্লেখ থাকা আসামীরা হচ্ছেন- নাবিল রাজা চৌধুরী, কাজী মেরাজ, জাহেদ ওরফে জায়েদ, মিজানুর রহমান সুজন, ইমাদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, দেওয়ান আরাফাত জাকির, মো. সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া তুষার, রুমন মিয়া, নাহিয়ান আহমদ রিপন ও মো. জহুরুল হক ওরফে শিবলী সাদিক এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জন।