২২ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ আ স ম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষে ভোট করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি খুবই লজ্জার বিষয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পিতার হত্যাকারী, ওই ধানের শীষ। বিএনপি কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করেছে। আর কিবরিয়া সাহেবের ছেলে, অত্যন্ত পরিতাপের বিসয় হলো, সে ওই বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ইলেকশন করে। এ থেকে লজ্জার আর কিছু থাকে না। আপনারা শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজীকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোট দিন।
হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল মজিদ খানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় মামলা করে এই কাজ যে বিএনপি করেছে সেটা প্রমাণ করেছেন।’
শনিবার সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন দলটির প্রধান। সমাবেশে বৃহত্তর সিলেটে মহাজোটে সব প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন তাদের মধ্যে আছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের দেওয়ান শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে।
মিলাদের মোকাবেলায় বিএনপি নিজের দলের প্রার্থী না দিয়ে গণফোরামে যোগ দেওয়া রেজা কিবরিয়াকে প্রার্থী করেছে। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে রেজার বাবা কিবরিয়ার উপরে গ্রেনেড হামলা হয়। হামলার পর গুরুতর আহত কিবরিয়াকে ঢাকায় আনতে হেলিকপ্টার চেয়েও পাওয়া যায়নি।
সে সময় কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া শান্তির পক্ষে নীলিমা নামে এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন। তিনি এই হত্যার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করেন।
এই হত্যার বিচার এখনো চলছে এবং আসামিদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা-কর্মী ছাড়াও আছেন বিএনপি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা। বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামানকে নেত্রকোণা-৪ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আবার রেজা কিবরিয়ার পাশে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন এই হত্যা মামলার আসামি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও।
রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগ দেওয়ার সময় তার বাবা হত্যার বিচার না হওয়ার আক্ষেপের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করায় রেজাকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।