১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জে প্রেমিকার অন্যত্র অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে প্রেমিকের তাপ্পরে প্রাণ গেল সুজনা নামের এক গৃহবধূর। এঘটনায় পুলিশ ঘাতক প্রেমিক শাহিনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর শাহীন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকান্ডটি সে নিজে একাই করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের প্রায় দেড় মাসের মাথায় প্রেমিক শাহিনকে গ্রেফতারের পর ক্লু- উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। প্রেমিক ঘাতক উপজেলার কৈখাইড় গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন এর পুত্র শাহিন। প্রেমিকা সুজনা ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের তোলাফর উল্লার মেয়ে।
জানা জায়, সুজনা বিগত ৩১ অক্টোবর সন্ধায় তার খালার বাড়ী সৈয়দপুর দাওয়াতে যাবার পথে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর ৪ নভেম্বর নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন নিখোঁজের পিতা। গত শনিবার বিকেলে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কৈখাইড় গ্রামের ইলিমপুর হাওরে ধান কাটতে গিয়ে একটি কংকাল দেখতে পায় ধান কাটার শ্রমিক। খবর পেয়ে সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী,ও নবীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত গোলাম দস্তগীর আহমেদ নেতৃত্বে একদল পুলিশ মাথার খুলি, হাড়, চুল, ওড়না ও সেলোয়ার কামিজসহ পরনের কাপড় উদ্ধার করেন।
সংবাদটি জানানো হয় সুজনার পরিবারকে পরে সুজনার পিতা তোলাফর উল্লাহসহ পরিবারের লোকজন ওড়না ও সেলোয়ার কামিজ দেখে হাড়গুলো সুজনার বলে সনাক্ত করেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায় পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কৈখাইড় গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন এর পুত্র শাহিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী জানান পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত শাহিনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সুজনার সাথে সাহিন মিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এ অবস্থায় সুজানা বেগমের অন্যত্র এক প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয়।
দাম্পত্যজীবনে তাদের ৪ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রেমিক শাহিনের ও স্ত্রী দুই সন্তান রয়েছে । কিন্তু সুজনার স্বামী প্রবাসে অবস্থান করায় গোপনে চলতে থাকে পরকীয়ার আসক্ত দুজনার গভীর সম্পর্ক। বিয়ের পরও তারা দুজনা বেপরোয়া হয়ে উঠে একে অপরকে কাছে পেতে। প্রায় সময়ই শাহিন প্রেমিকা সুজনাকে আর্থিক সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগীতা করতো।
কিন্তু সুজনার অন্য ছেলের সাথে কথা বলতো অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে যা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় তাদের মধ্যে প্রায়ই এ বিষয় নিয়ে সুজনার সাথে শাহিনের মান অভিমান হয়। একপর্যায় উক্ত সন্দেহ চরম আকার ধারণ করে। কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলনা শাহিন।
ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহিন সুজনার নাকে ও গালে ২/৩ টি থাপ্পর মারে। থাপ্পরের সাথে সাথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সুজানা।