১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্ত্রাস-বোমাবাজদের প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিলেট-১ আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আওয়ামীলীগ ব্যবসা ও উন্নয়নবান্ধব সরকার। ব্যবসা-বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্নধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয়, উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। দেশে রাজনীতির নামে বিএনপি-জামায়াত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, পেট্রোল বোমার আগুনে মানুষ হত্যা করেছে। হরতাল-অবরোধের নামে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সোমবার সিলেট নগরীতে নির্বাচনী গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত দশবছরে দেশের শহর থেকে গ্রামগঞ্জ সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে অর্থনীতিতে যখন মন্দাভাব ছিল তখন ২০০৯ সালে বাংলাদেশে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাত ধরে দেশের অর্থনীতি আজ চাঙ্গা হয়েছে। তলাবিহীন ঝুঁড়ি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত বাংলাদেশ আজ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে আজ মডেল ইকোনমিক কান্ট্রি।
ড. মোমেন বলেন, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০৩ মার্কিন ডলার। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ১০ বছরে ২০১৭-১৮ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা বিবেচনায় ৩০ ডিসেম্বর নৌকার পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান ড. মোমেন।
সোমবার সকালে ড. মোমেন আনজুমানে আল ইসলাহ সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলার নেতাকর্মীদের সাথে সোবহানীঘাট আল ইসলাহ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। দুপুরে নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের সোবহানীঘাট ট্রেড সেন্টার এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকেলে নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের সোনারপাড়া এলাকায় গণসংযোগ ও ১৯নং ওয়ার্ডের রায়নগর এলাকায় গণসংযোগ করেন।
সকালে নির্বচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ একটি সুসংঘটিত ও আদর্শবাদী সংগঠন। এ সংগঠনের অবস্থান জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদের বিপক্ষে শান্তির পক্ষে। বিগত ১০ বছরে এদেশে ইসলামি আদর্শ বাস্তবায়ন, ইসলামী শিক্ষা বিস্তার ও নীতিমালা প্রণয়নসহ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করে সুনাম অর্জন করেছে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় খাদ্য ঘাটতি কমেছে, সিলেট শহর ডিজিটাল শহরে পরিণত হয়েছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তিন হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করায় অপরাধ কমেছে। এখন মসজিদে বোমাবাজি হয় না। শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, সারা দেশে তের হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে। আমার বড় ভাই অর্থমন্ত্রী বিগত দশ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন স্বাধীনতা পরবর্তীকাল হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এতো উন্নয়ন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে আমার ভাইয়ের মতো সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই।
সোবহানীঘাটস্থ আল ইসলাহর বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, ধর্মের নামে বোমাবাজি, জঙ্গীবাদ প্রতিহতকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের বিশেষ সুনাম রয়েছে। দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের প্রতি আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।
সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সিসিক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাত আলী, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শাহনুর ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।
আল ইসলাহ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম মনোওর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, অর্থ সম্পাদক আবু সালেহ মো. কুতবুল আলম, অফিস সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, মহানগর আল ইসলাহ সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সহ সভাপতি বশির মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিন পাশাসহ মহানগর, সদরের আল-ইসলাহ ও তালামীযের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য স্থানে গণসংযোগকালে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিত চৌধুরী, এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, আব্দুর রহমান জামিল, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামিমা শাহরিয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আফসর আহমদ, এস এম আলী হোসেন, এডভোকেট বিজয় কুমার দেব বুলু, দেলোয়ার হোসেন রাজা, জাবেদ সিরাজ, মিরন আহমদ, ইসমাঈল মাহমুদ সুজন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এডভোকেট ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।