১১ ডিসেম্বর ২০১৮

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : পর্যটন খ্যাতের সুপরিচিত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নীল নদ খ্যাত লালাখাল পর্যটন স্পট সারী নদী। পর্যটকদের সুবিধার্তে উপজেলা প্রশাসন সারী নদীর লালাখাল বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০লক্ষ টাকা ব্যয়ে “শুকসারী” নামে বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন করপোরেশনের অর্থায়নের নান্দরিক ঘাট নির্মাণ করে। ঘাটটি জনসাধারনের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্তের ৬মাসের মধ্যে ঘাটের বেউজ, পিলার, লিন্টার ভেঙে পড়ে এবং মূল স্থান হতে সরে যায়।
সচেতন মহলের প্রশ্ন কাজের অনিয়মের ফলে ৬ মাসের মধ্যে ঘাটটি ভেঙে গেল, পাহাড়ি ঢল ও আগত বন্যায় ঘাটটি যথা স্থানে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে আলপকরে জানা যায়- জুন মাসে শুকসারী ঘাট বা জলঘাট টি তড়িগড়ি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করে টিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল কাদির এন্টারপ্রাইজ। ঘাট নির্মাণে স্থানীয় নদী হতে কাঁদা মিশ্রিত বালু, নিম্ন মানের মরা পাথর এবং তুলনামূলক ছোট রড ব্যবহার মাধ্যমে ঘাট নির্মাণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের নানা অনিয়ম দুর্নীতি দেখে স্থানীয় লালাখাল কালিঞ্জবাড়ী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী, নজির আহমদ, আব্দুর রহিম ও ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জানান উপজেলা প্রশাননের কাছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত সুষ্ট প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ঘাট উদ্বোধনে ৬মাসের মধ্যে পিলার লিণ্টার ভেঙে নদী দিকে মূল স্থান হতে সরে পড়েছে।
এলাকাবাসী আর জানান কাজের শুরুতেই অনিয়মের জন্য একাধিকবার অভিযোগ জানালেও আমলে নেয়নি উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসার হাসানুজ্জামান অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে উপজেলা এলজিইডি’র সাব এসিষ্ট্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমদ জানান- ঘাট নির্মাণে সম্পূর্ণ তদরকি আমি নিজেই করেছি। ঘাট সরে গেলে কি হবে ঘাট জায়গায় রয়েছে। ফাটলের ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করলে তিনি বলেন এমন ঘাট নির্মাণে ব্যয় অনেক বেশি, অল্প টাকায় নিমিত করার ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিধি মোতাবেক এলজিইডি এবং টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম বলেন- ঘটনার সংবাদ পেয়েই তিনি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রির্পোট পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।