৮ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-৫ জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন না আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার? এ আসনে কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী; এ প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়ার আগেই নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন রওশন এরশাদের আস্থাভাজন জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম উদ্দিন এমপি।
এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে বড় একটা স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। তার এই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে সরগরম এখন পুরো জকিগঞ্জ-কানাইঘাট। এমনকি প্রশ্ন উঠছে; তবে কি কপাল পুড়ছে হাফিজ মজুমদারের?
যদিও গত কয়েকদিন থেকে সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদারের কর্মী ও সমর্থকরা সিলেট-৫ আসনে নৌকার প্রার্থীই চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন। তাদের এ ঘোষণা আরো জোরালো হয় মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় সেলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর।
এদিকে সর্বশেষ শুক্রবার সেলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার পর আবারো আলোচনায় সেলিম উদ্দিন। বিশেষ করে মনোনয়নের বৈধতা পাওয়ার পর নিজেকে সিলেট-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকে নির্বাচনী এলাকাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেলিম উদ্দিন লিখেন-
”সকল প্রশংসা মহান আল্লাহতাআলার-যিনি আমাদের প্রতিপালক। সকল জল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে মহান আল্লাহর রহমতে আমার নির্বাচনী এলাকা ২৩৩, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে নির্বাচন করার বৈধতা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষনা করায় প্রথমে মহান আল্লাহতাআলার শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের রাজনীতি আগামী দিনের ইতিহাস-সেই ইতিহাসকে সমুন্নত রাখতে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগ সহ প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ভালোবাসা, সমর্থনকে সম্মান জানিয়ে এবং আমার পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, মাননীয় সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, মাননীয় কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এর পরামর্শক্রমে আমার প্রাণের প্রিয় নির্বাচনী এলাকা জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি আমার নির্বাচনী এলাকা ২৩৪, সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসন থেকে মহাজোটের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালাম।
গত ২ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত জকিগঞ্জ-কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অজস্র-অগণীত টেলিফোন আমাকে অনুপ্রাণীত করেছে, মুগ্ধ করেছে, সাহস যোগীয়েছে। আমি আপনাদের সকলের কাছে চির কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর কাছে আপনাদের সকলের জন্য আমার প্রার্থনা ও শুভকামনা।
বিনীত
(সেলিম উদ্দিন এমপি)”
শুধু এই স্ট্যাটাস নয়, এর সাথে জুড়ে দেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার হাত থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ‘ইয়েস কার্ড’ গ্রহণ করার ছবিও।
এমনকি জাতীয় পার্টির একটি সূত্র বলছে- শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের কাছ থেকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি গ্রহণ করেছেন। যদিও এ ব্যাপারে জানার জন্য সেলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সেলিম উদ্দিনের প্রার্থিতার খবরটি বিশ্বাস করতে রাজী নয় হাফিজ মজুমদারের আস্থাভাজনেরা। তারা খবরটি সঠিক নয় বলে জানান।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী জানান- সেলিম উদ্দিনের দেয়া এই ফেসবুক স্ট্যাটাস মহাজোট থেকে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করে না। তিনি আগামীকাল (শনিবার) পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেন।
এ ব্যাপারে জানতে হাফিজ আহমদ মজুমদারের আস্থাভাজন জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান আহমদ চৌধুরী, কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রার্থিতার সত্যতা জানতে হাফিজ আহমদ মজুমদারের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।