৪ ডিসেম্বর ২০১৮
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : শুধু চায়ের রাজধানী হিসেবে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি থাকলেও এর পাশপাশি বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এর নাম ওঠে এসেছে পর্যটকদের ডায়েরীতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে রয়েছে সবুজে ঘেরা চায়ের বাগান, রয়েছে চা কন্যা ভাষ্কর্য, রেইন ফরেষ্ট লাউয়াছড়া, নির্মাই শিব বাড়ি, কাচারী বাড়ি, খাসিয়া পান পুঞ্জি, মিনি চিড়িয়াখানা, হাইল হাওর, বধ্যভূমি-৭১, নীল কন্ঠ চা কেবিন, মনিপুরী পল্লী ইত্যাদি বিশেষ পর্যটন স্থান। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু সৌন্দযের্র হাতছানি পরিলক্ষিত হয়।
প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্থানগুলোতে হাজারও দেশী-বিদেশী পর্যটকদের মিলনমেলা দেখা যায়। পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে ভ্রমনের জন্য অপরুপ সুন্দর একটি স্থান হচ্ছে শতবছর পুরোনো ডিনস্টন সিমেট্রি। ১৮৮০ সালে ব্রিটিশরা এখানে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করতে এসে বিভিন্ন সময় যেসব ব্রিটিশ নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন তাদের সমাহিত করা হতো এই ডিনস্টন সিমেট্রিতে। চা বাগানের মাঝে গড়ে তোলা অসাধারণ সাজানো-গোছানো এই সিমেট্রিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ৪৬ জন বিদেশী নাগরিক।
যাদের ৪১জনের নাম ও পদবী এখানে খোদাই করা আছে। ডিনস্টন সিমেট্রির যে পাঁচটি সমাধির পরিচয় ফলক নেই, সেই সমাধির একটিতে ব্রিটিশ নাগরিক ‘জেসিজি’ লিখে গেছেন ‘ইন লাভিং মেমোরি অব মাই হাজবেন্ড’। প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ‘জেসিজি’ সুদূর ব্রিটেন থেকে ছুটে এসেছিলেন শ্রীমঙ্গলে। কিন্তু স্বামীর মরদেহের শেষ দেখা দেখতে পারেননি। ফলে মরদেহের ফলকে ‘ইন লাভিং মেমোরি অব মাই হাজবেন্ড’ উক্তিটি লিখেছিলেন।
এখনও এ কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক বিদেশী নাগরিক স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসার এ উক্তি পড়ে অশ্র“সিক্ত হয়ে ওঠেন। ঐতিহ্যবাহী এই ‘ডিনস্টন সিমেট্রি’ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে রাজঘাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত খেজুরীছড়ায় ফিনলে টি কোম্পানির চা বাগানে অবস্থিত।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সাদিয়া আফরিন জানান, জায়গাটি বেশ সুন্দর এবং মূল যে বিষয়টি জানতে পারলাম এটি অনেক বছর আগের ঐতিহ্যবহনকারী একটি স্থান। এবার প্রথম এই ডিনস্টিন সিমেট্রি দেখলাম। এই ধরনের স্থান পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হওয়ার সামিল।
কুঞ্জবন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল কবীর বলেন, চারিদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পাহাড় ঘেরা চিরসবুজ চা বাগানের মাঝখানে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা শতবর্ষের স্মৃতিবিজড়িত শ্রীমঙ্গলের এই ডিনস্টন সিমেট্রি ২য় বিশ্ব যুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে।
চা বাগানের ভিতরে থাকার কারণে অনেক সময় পর্যটকরা এই জায়গায় যেতে পারেন না। এজন্য সবার কাছে এটি অতি মাত্রায় পরিচিত হয়ে উঠেনি। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিশেষ উদ্যোগে এই স্থানটি পর্যটকদের জন্য উত্তম একটি জায়গা হয়ে উঠবে বলে মনে করছি।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাপস দাশ বলেন, অনেক পর্যটকরাই এই জায়গায় বেড়াতে আসতে চান। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যার দরুন অনেক সময় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এই জায়গাটি উন্মুক্ত রাখলে পর্যটকরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এই জায়গাটি ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ।