২০ জানুয়ারি ২০১৯


জালালপুর-লামারসুলপুর সড়কের বেহাল দশা

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জালালপুর-লামারসুলপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ যাতায়াতে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যাত্রী সাধারণের। যাতায়াতে ভোগান্তি লাঘবে সড়কটি চলতি মৌসুমে সংস্কারে দাবি জানিয়েছেন উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

জানা যায়, প্রায় ১৮ কিলোমিটার জালালপুর-লামারসুলপুর সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন উপজেলার দোলারবাজার, সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজালাবাদ, ভাতগাঁও ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। রাস্তার পাশে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, ভারী যানবাহন চলাচল ও নি¤œমানের কাচামাল দিয়ে রাস্তার কাজ করায় নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যেই নষ্ট হতে থাকে বিটুমিন। ভাঙ্গতে থাকে সড়কের পাকা। অনেক স্থানে সড়কের পাকা ভেঙ্গে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এইব গর্তে পানি জমে যায়। তাছাড়া রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া ছোটবড় গর্ত আর খানাখন্দে গাড়ি যানবাহন চালাতে বিপাকে পড়েন চালকরা।

একটু এদিক সেদিক হলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় চালক ও যাত্রীদের। এই রাস্তা দিয়ে জেলা শহর সুনামগঞ্জ ও বিভাগীয় শহরে চলাচল করেন এখানকার মানুষজন। রাস্তার এমন বেহাল দশায় মুর্মূষ রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে হিতে বিপরীত ঘটনা ঘটে। মাত্রাতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে অসুস্থদের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায় বলে জানান সাধারণ যাত্রী। বেহাল রাস্তার কারণে দূরত্বের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হয় যাত্রীদের। ৪ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচলের অন্যতম সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যানবাহন চালক, যাত্রীসহ স্থানীয় জনগণ।

জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক সাদিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায়। দেখার কেউ নেই। ভাঙ্গাচোরা সড়ক দিয়ে গাড়ী চালাতে অনেক কষ্ট হয়। খুবই সর্তক হয়ে ড্রাইভিং করতে হয়। একটু এদিক সেদিক হলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।

কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রুয়েল আহমদ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার প্রায় ৪ ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের। ১০ টাকার রাস্তা ৩০ টাকা দিতে হয় যানবাহন চালকদের।

ছোট মিয়া নামে পালপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, টি ইউনিয়নের মানুষের কথা চিন্তা করে চলতি মৌসুমে সড়কটি সংস্কার করা দরকার। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাগাদা জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আবুল মনসুর মিয়া বলেন, জালালপুর-লামারসুলপুর সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প টেন্ডার হয়েছে। চলতি মৌসুমেই এর কাজ শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন