২২ নভেম্বর ২০১৮
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দলীয় কোন্দল কাটিয়ে ওঠতে না পারলে সুনামগঞ্জের ১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয় নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের তৃণমুলের নেতা কর্মীরা । কোন্দলের দিক থেকে প্রথম স্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ ১ (ধর্মপাশা-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) আসন। এ আসনে দলের বহু সংখ্যক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় কেন্দ্র থেকে মনোয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।
এ আসেন দলীয় কোন্দলের শিকর উপজেলা পর্যায়ের তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিস্তার লাভ করছে। তিনটি উপজেলা ও একটি থানা এলাকার নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে নেতাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব ভোটের ময়দানেও পড়েছে। সরকারের দীর্ঘ সময়ে দল সুসংগঠিত হওয়ার পরিবর্তে কোন্দলের সম্প্রসারণ হয়েছে এসব এলাকায়।
আসনের বিভিন্ন গ্রাম এলাকার কর্মী সমর্থকগণ বিভক্ত হয়ে পড়েছেন অনেক আগেই। এজন্য এক সঙ্গে দলীয় কর্মসুচি পালন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পৃথকপৃথক কর্মসুচির মাধ্যমে পালন করেছেন বিভক্ত নেতা কর্মীরা। দীর্ঘ সময়ে একে অন্যের মধ্যে বিশাল দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। দলের তৃণমুলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক আগে থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীদের কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তফসিল ঘোষণার পুর্ববর্তী সময়ে দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির প্রাধান্য পেয়েছে বেশি।
নৌকার সমর্থনে সভাসমাবেশ করে অনেক প্রার্থী একে অন্যের সমালোচনা করেছেন। এতে তৃণমুলের ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কর্মীরা একটি প্লাটফর্মে কাজ না করায় নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বন্ধনে ফাটল ধরেছে। স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে গিয়ে এলাকায় ভোট প্রার্থনা করায় বিভেদ আরও বেড়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, সরকারের দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য দলকে সংগঠিত করার পরিবর্তে নিজের গ্রুপকে শক্তিশালী করেছেন।
তাই তৃণমুলে এধরণের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এমপি লোকজন অনিয়ম দুর্নীতিতে নিমজ্জ্বিত হয়ে পড়ায় দলের গ্রহণ যোগ্যতা হারিয়েছেন। এলাকা ভিত্তিক উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে বিভেদ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিছ বলেন, দলের তৃণমুলের নেতা কর্মীদের মধ্যে কোন গ্রুপিং নেই। গ্রুপিং রয়েছে নেতাদের মধ্যে। ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সৃষ্টি হয়েছে গ্রুপিং।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকার বলেন, তৃণমুলের মতামত নিয়ে দল পরিচালনা করলে এ সমস্যা সৃষ্টি হতো না।
কোন ব্যক্তি যখন দলের থেকে ব্যক্তি সংগঠনকে প্রাধান্য দেয় তখন নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। দলের নেতারা এক মঞ্চে ওঠতে পারলেও কতটুকু কাজ করবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর খোকন বলেন, এ আসনে সবচেয়ে বেশী প্রার্থী দলীয় মনোনয় পাওয়ার আশায় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এলাকায় তাদের নিজস্ব কর্মীবাহিনী রয়েছে।
তাদের পক্ষে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাও এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। একারণে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনেও পড়বে। এ সংকট কাটিয়ে ওঠতে না পারলে কোন্দলের সুফল ভোগ করবে বিএনপির প্রার্থী। এজন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ আসন থেকে বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী দেবে তাই সেসময় সংকট আরও ঘনীভুত হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, কোন্দলের কথা অস্বীকার করে বলেন, দলে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে কোন্দল নেই। ব্যক্তি স্বার্থের কারণে কিছু সংখ্যক নেতা কোন্দলের বিষয়টি সামনে আনছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্ককে মানুষ ভোট দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও অনিয়ম দুর্নীতি কথা তারাই বলে যাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি।