১১ নভেম্বর ২০১৮
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদ জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছেন নদী তীরের আমানীপুর বর্মন পাড়া এলাকার ২৭টি জেলে পরিবার। ফলে এসব পরিবারের লোকজন এখন আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে, প্রশাসন সরেজমিন পরদর্শনের পর মৎস্যজীবী বর্মন সম্প্রদায়ের প্রত্যেক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ শতক খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদ জামালগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা সদর থেকে ৩২ কি:মি: দক্ষিণ পশ্চিমে ৩নং ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমানীপুর বর্মনপাড়া। এখানে বসবাস ২৭টি জেলে পরিবারের। কিন্তু প্রবাহমান সুরমা নদীর করাল গ্রামে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি ধ্বসে পড়ে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। নুন আনতে যাদের পান্থা ফুঁড়ায়, সেই সকল হতদরিদ্র মৎস্যজীবীরা প্রতিবছর নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে স্থান পরিবর্তন করতে হয়। নারী শিশুদের নিয়ে অন্যত্র খাবার ফুরসত মিলে না।
এই অনিশ্চিয়তার মধ্যে ও অস্তিচর্মসার শূন্য দেহ নিয়ে চালায় জোড়াতালির সংসার। ২৭টি পরিবারে দেড় শতাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই পাড়ায় ইউপি সদস্য রঞ্জন তালুকদারের দেয়া নলকূপটি নদীর ভাঙ্গনে ধ্বসে পড়ায় বিশুদ্ধ পানি থেকেও এখন তারা বঞ্চিত। এছাড়া পূর্ব পুরুষ থেকে এ পর্যন্ত নারী ও পুরুষরা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
এই গ্রামের মুরুব্বি জয় মোহন বর্মন বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ মাছ মাইরা ভাত খাই, আমাদের বসতবাড়ি গাঙ্গে ভাইঙ্গা নিছে, একন কই থাকবো, জানিনা, চেয়ারম্যানরে জানাইছি, যদি ঘর বানাইবার জায়গা দেয়। নইলে পুলাপান লইয়া কই যাইমো জানি না’।
এদিকে, অসহায় হতদরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের অনুসন্ধানে ইউপি সচিব অজিত কুমার রায় ও চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান পরিদর্শন করেন এই গ্রামটি। গ্রামটির জীবন মানের করুন চিত্র দেখে তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রত্যেক পরিবারকে ৭ শতক খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার পদক্ষেপ নেন।
গত ৭ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্প-২ বাস্তবায়নে নির্মিত গৃহের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারের লোকজন। তারা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ’র কাছে আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানান।