৭ নভেম্বর ২০১৮
অজয় বৈদ্য অন্তর : দায়িত্ব গ্রহণের পর সিসিকের প্রথম সভা অনুষ্টিত হচ্ছে বুধবার। প্রথম সভাকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত পরিষদ সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস। তাছাড়া, প্রথম সভাতেই প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হতে পারেন-এমন সংবাদেও রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। ফলে, সিসিকের নির্বাচিত পরিষেদের প্রথম সভাকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর উৎসুক দৃষ্টি এখন নগরভবনের প্রতি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নবনির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলর পরিষদ শপথ নিয়েছেন ৫ সেপ্টেম্বর। শপথ নেওয়ার পরই নতুন পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা।
কিন্তু গত পরিষদের মেয়াদ শেষ না হওয়ায় দায়িত্ব নেয়নি নতুন পরিষদ। এরই মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী শপথ গ্রহণের পর পরই যুক্তরাজ্যে সফরে চলে যান। দেশে ফেরেন বৃহস্পতিবার ২৭ সেপ্টেম্বর।
দেশে ফিরে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২য় মেয়াদে নগরভবনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ৮ অক্টোবর। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিষদের প্রথম সভা ৭ নভেম্বর আহবান করা হয়। প্রথম সভা থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে অধিকাংশের ভোটে নির্বাটিত হবেন প্যানেল মেয়র।
ফলে পরিষদের প্রথম সভাকে কেন্দ্র করে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে প্যানেল মেয়র প্রসঙ্গ। সবার উৎসুক দৃষ্টি এখন নতুন প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে। প্যানেল মেয়র পদে আগ্রহী প্রার্থীর তালিকায়ও রয়েছেন বেশ কয়েকজন। এরই মধ্যে একঝাঁক কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র পরিষদের প্রথম সভা আহ্বান করবেন। ওই সভায় নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ভোটে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্যানেল মেয়র হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান তৌফিকুল হাদি, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিকন্দর আলী, ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বকস লিপন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আযম খান। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে প্যানেল মেয়রের আলোচনায় রয়েছেন- অ্যাডভোকেট রুকসানা বেগম শাহনাজ, শাহানারা বেগম ও নাজনীন আক্তার কণা।
এ ব্যাপারে সিসিকের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, তিনিসহ এক ডজন কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন।
২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম বলেন, প্যানেল মেয়র পদে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। অবশ্য পরিষদ বসলে পুরোপুরি জানা যাবে, কারা প্যানেল মেয়র হতে চাচ্ছেন।
প্যানেল মেয়র পদে আগ্রহী সংরক্ষিত আসন-৭ এর কাউন্সিলর নাজনীন আক্তার কনা বলেন, প্রার্থী তো অনেকেই আছেন। সবাই তো জয়ী হতে চায়। তিনি বলেন, এই বিশ^াস থেকেই সিসিকের নির্বাচিত সকল সম্মানীত কাউন্সিলরদের ভালোবাসায় জয়ের স্বাদ পেতে চাই।
তবে, এবার প্যানেল মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেননা ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ১ম প্যানেল মেয়রের তালিকায় থেকেও আমার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তাই এই পরিষদে পূনর্বার প্যানেল মেয়র পদে আমার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, এবার যিনি প্যানেল মেয়র হিসেবে সর্বাধিক ভোটে বিজয়ী হবেন- অন্তত সে ক্ষেত্রে যেনো আর আইনী জটিলতার অজুহাত না দেখানো হয়।