২৪ অক্টোবর ২০১৮


সমাবেশের জন্য প্রস্তুত রেজিস্টারি মাঠ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের রাজনৈতিক ময়দানে আলোচিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাম। আজ বুধবার সমাবেশে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা কী ঘোষণা দেবেন সেদিকেই দৃষ্টি সবার।

ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের নেতারা বলছেন, সিলেট থেকে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করতে যাচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ।

তবে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন করবেন কোন দলের নেতারা? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সর্বমহলে। কারণ সিলেটের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে ৫টি দল নিয়ে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৪টি দলই সিলেটে প্রায় অস্থিত্বহীন। তাই বিএনপির ওপরেই ভরসা করতে হবে বাকি চারটি দলকে।

অপরদিকে ১৪ দলের অনেক শীর্ষ নেতাই বলছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপি তাদের সমাবেশ বাস্তবায়ন করছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমান সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত পোস্টার নগরীর বিভিন্নস্থানে লাগিয়েছে। এতে লিখা রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ সফল করুন। ১৪ দলের নেতাদের প্রশ্ন, ‘পোস্টারে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের ছবি না দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে অন্যদের ছবি প্রমান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে বিএনপিই তাদের সমাবেশ বাস্তবায়ন করছে।’

এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটে পৌঁছেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিমানযোগে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছেন। এসময় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদসহ ঐক্যফ্রন্টের আরও কয়েকজন নেতা তার সাথে সিলেট আসেন।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতেই এই সমাবেশ। এটা জনগণের দাবি। দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি আজ সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান কামাল।

আজ বেলা ২টায় নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই সমাবেশের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে সরকারবিরোধী এই নতুন জোট। সিলেটে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারত করবেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

এ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘সিলেটের সমাবেশ থেকে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে যাব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাত দফা দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করবে।’

সিলেটে আজকের সমাবেশ সফল করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সব ধরনের সংঘাত-সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিলেটসহ আশপাশ এলাকার লোকজনও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। এজন্য নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আজ। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত থাকবেন, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি আসম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের পক্ষে দলটির নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের পক্ষে দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ।

এছাড়া, সিলেটের সমাবেশ সমন্বয় করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মো. শাজাহান ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানান, আজকের সমাবেশ সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা বিএনপি।

শেয়ার করুন