২০ অক্টোবর ২০১৮
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বোরো ধানের সর্ববৃহৎ কনছ খাই হাওরটি পানি শূন্য হওয়ায় হাজার হাজার কৃষক শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা এবার যদি ফসল আবাদ করতে না পারেন, তাহলে কি খেয়ে বাঁচবেন। এ বিষয় নিয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে এখন হতাশা আর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, কনছ খাই গ্রুপ জলমহালের ইজারাদার কামরুজ্জামান তার বিলের মাছ ধরার জন্য হাওরের বাঁধ কেটে দিলে হাওরের সব পানি নদীতে নেমে প্রায় ৫০ হাজার একর বোর জমি শুকিয়ে যায়।
ফলে আগামী বোরো চাষ মৌসুমে হাওরের বোরো জমি পতিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে হাওর পারের ১৫টি গ্রামের কৃষকেরা আগামী বোরো ফসল থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রামগুলো হলো ভুজনা, উমরপুর, কালিকাপুর, কদমতলী, শরীফপুর, নুরপুর, নন্দীগ্রাম, জলালপুর, পুটিপশি, আজমপুর, খইয়া জুরি, শান্তিপুর, টেংরা টিলা, আজবপুর, কাটাখালী।
এই এলাকার শতকরা ৯০ভাগ লোক বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল, বোরো ফসলই কৃষকের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। পর পর দু’বছর আগাম বন্যায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে এই এলাকার জনগণ হত দরিদ্র হয়ে পড়ে।
কৃষকেরা সরকারি ব্যাংক ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়ে। এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী দু’মুঠো ভাতের লড়াইয়ে ক্লান্ত, ঋণ মুক্ত হতে পারেনি। তাই এলাকাবাসীর দাবি সরকারি কৃষি ঋণের টাকা মওকুফসহ, বোরো ধান রোপন মৌসুমে সরকারি উদ্যোগে খাসিয়ামারা নদীর রাবার ড্যাম প্রকল্পের পানি কনছ খাই হাওরে দেওয়ার জন্য।
সরেজমিনে কনছ খাই হাওর ঘুরে দেখা যায় ধীরে ধীরে পানি শূন্য হওয়ার দৃশ্য। এসময় কালিকাপুর গ্রামের আবদুল মালিক বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যে কনছ খাই হলো ঐতিহ্যবাহী বোরো হাওর। এই হাওর থেকে প্রতি বছর একটি ফসল উৎপাদন হয়। দ্বিতীয় কোন ফসল এখানে হয় না, ছয় মাস এই এলাকার মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় কোন কাজ কর্ম থাকে না। এখানকার মানুষ অসহায়ত্বের মাঝে দিন কাটায়।
আমরা চাই সরকারী সহযোগিতা। এব্যাপারে হাওর পাড়ের বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুর রহিম নেয়ামত বলেন, এই সময় কনছ খাই হাওরে পানি ভরা থাকে। কনছ খাই গ্র“প জল মহালের ইজারাদার কামরুজ্জামান তার বিলের মাছ ধরার জন্য হাওর রক্ষা বাঁধ কেটে দিলে সুরমা নদীতে পানি নেমে যায়। ফলে হাজার হাজার বোরো জমি শুকিয়ে মরু ভূমির আকার ধারণ করে।
আগামী বোর মৌসুমে এই হাওরে ধান রোপন করা সম্ভব নাও হতে পারে, তাই আমি সরকারের কাছে যারা বাঁধ কেটেছে তাদের বিচারসহ হাওর পারের মানুষের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছি।
কনছ খাই গ্র“প জল মহালের ইজারাদার কামরুজ্জামান বলেন, আমি বাঁধ কাটি নাই, হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি চলে গিয়ে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। পানি চলে যাওয়ায় অনেক মাছ শুকনায় পরে মরে গিয়াছে।
এব্যাপারে সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, এটা ন্যাক্কারজনক কাজ, হাজার হাজার কৃষকের পেটে আঘাত করা কারো কাম্য নয়। বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজকে জানিয়েছি।