২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছচোর চক্র দৈনিক অতিরিক্ত মজুরিতে এখন জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সামাজিক বনায়নের গাছ কাটায় ব্যস্ত রয়েছে। গাছচোর চক্রের দিক পরিবর্তনে আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টহল জোরদার হওয়ায় গত ৯ মাসে মাত্র একটি আগর গাছ ও দুটি সেগুন গাছ মিলিয়ে মাত্র ৩টি গাছ চুরি হলেও দুটি কাটা গাছ উদ্ধার করা হয়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকা ঘুরে এ বনের বসবাসকারী খাসিয়া সম্প্রদায় ও বনকর্মীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
চিরহরিৎ ঘনবন লাউয়াছড়ায় সেগুন, আগর, চাপালিশ, লোহাকাঠ, গর্জন, গামাইসহ মূল্যবান গাছ গাছালিতে ভরপুর। ফলে এক বছর আগেও সংঘবদ্ধ সশস্ত্র গাছচোর চক্রের থাবার শিকার ছিল এ বন। আগে এক দিন অন্তর একটি দুটি করে সেগুন, চাপালিশ, গর্জন আগর গাছ কেটে চুরি করে নিতো সংঘবদ্ধ সশস্ত্র গাছচোর চক্র। এ চক্রের সদস্যরা সব সময় সশস্ত্র থাকতো বলে বনকর্মীরা তাদের কাছে অসহায় ছিল। অনেক সময় বনকর্মীরাও গাছচোর চক্রের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বনকর্মী ও এ বনের বাসিন্দা খাসিয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে মাত্র ৩টি গাছ চুরি হয়েছে। গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে রাতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথের ধারের কার পার্কিং এলাকা থেকে একটি সেগুন গাছ কেটেছিল গাছচোর চক্র। তবে রাতের বিজিবির টহল থাকায় বাধ্য হয়ে এ কাটা গাছটি ফেলে যায় চোর চক্র। ১৩ মে গভীর রাতে উদ্যানের ভিতরের আগরবাগান এলাকা থেকে একটি আগর গাছ কাটলেও খাসিয়া পরিবার সদস্যরা বনকর্মীদের সাথে মিলে ধাওয়া করলে চোরচক্র এ আগর গাছটিও ফেলে যায়। তবে ২৭ মে গভীর রাতে উদ্যানের সড়কের ধার থেকে একটি সেগুন গাছ কেটে নিয়েছিল চোরচক্র। এরপর এখন পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে গাছ চুরি হয়নি।
লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী ও খাসিয়া সদস্য সাজু মারছিয়াং জানান, এ বনের সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ, সহব্যবস্থাপনা কমিটি ও খাসিয়া পরিবার সব সময় তৎপর বলে গাছচোর এ বন থেকে গাছ কাটতে পারছে না।
তারা আরও জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সামাজিক বনায়নের বন্দোবস্তকৃত গাছগাছালি কাটা শুরু হওয়ায় গাছচোর চক্রের সদস্যরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে সেখানে গাছ কাটায় ব্যস্ত রয়েছে। ফলে তারা এখন আর উদ্যানে হানা দিচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী সহব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিনিধিকে বলেন, বর্তমানে বনকর্মী, উদ্যান সহব্যবস্থাপনার পাহারাদার দল ও এ বনের বাসিন্দা খাসিয়া পরিবার খুবই তৎপর। ফলে এ উদ্যানে গাছ চুরি বন্ধ বলা যায়। গত নয় মাসে মাত্র ৩টি ব্যতীত আর গাছ চুরি হয়নি।
সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমানও মনে করেন অতিরিক্ত মজুরিতে গাছচোর সদস্যরা সামাজিক বনায়নে কর্মব্যস্ত। তাই তারা এখন উদ্যানের গাছগাছালির দিকে নজর দিচ্ছে না। তাছাড়া গাছ চুরি প্রতিরোধে বন বিভাগ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।