২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮


সিলেট অঞ্চলে বাড়ছে মাদকের আগ্রাসন

শেয়ার করুন

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেট অঞ্চলে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের আগ্রাসন বেড়ে চলেছে। গত বছরের প্রথম ৮ মাসে আটক করা হয়েছিল ২ হাজার ২৮৭ পিস ইয়াবা। চলতি বছরের ৮ মাসে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ পিসে।

একইভাবে গতবার জব্দকৃত গাঁজার পরিমাণ ছিল ২২৫ কেজি। এবার এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৭ কেজিতে। কেবল ইয়াবা-গাঁজাই নয় অন্যান্য মাদকদ্রব্য আটকের হারও কয়েকগুণ বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহিদ হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবার জব্দকৃত মাদকের চালান অনেক গুণ বেড়েছে। মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’র সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতায় ১ হাজার ৩৪৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত বছর এই ৮ মাসে অভিযানের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৩ টি। গত বছরের অভিযানে মামলার সংখ্যা ৪০৮ হলেও এবার মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩২টি। গতবার আসামীর সংখ্যা ছিল ৪৫৭ জন। এবার আসামীর সংখ্যা ৪৭৭ জন।

জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে ২৬৭ দশমিক ৩৬৩ কেজি গাঁজা, ১৩ হাজার ৯১৭ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৪ বোতল বিদেশি মদ, ২ গ্রাম হেরোইন, ৮৫ বোতল ফেনসিডিল, ৭৩৪ লিটার চোলাই মদ, ১৮ হাজার ২৬০ লিটার ওয়াশ এবং ৬০ লিটার ডি-এস জব্দ করা হয়।

এ সকল মাদকদ্রব্য আটকের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় ২৪৪ টি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় ১৮৮টি। মোট মামলার সংখ্যা ৪৩২টি।

এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫১০টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ২৩৪টি, হবিগঞ্জ জেলায় ২৮৩টি ও মৌলভীবাজার জেলায় ৩২২ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ১টি প্রাইভেট কার, ১টি বাস, ১টি মাইক্রোবাস, ১টি পিকআপ ও ১টি সিএনজি অটোরিকসা আটক করা হয়।

এদিকে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৩টি অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৬৭টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ২৪১টি। মোট মামলার সংখ্যা ৪০৮টি। অভিযানকালে ২২৫ দশমিক ৬০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও ১ হাজার ৩৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ২ হাজার ২৮৭ পিস ইয়াবা, ৮ গ্রাম হেরোইন, ১১৩ বোতল ফেনসিডিল, ৭০২ লিটার চোলাই মদ, ৬ হাজার লিটার ওয়াশ, ১ হাজার ৭৪৫ লিটার ডিএস ও ৯০ লিটার পঁচুই আটক করা হয়। এছাড়া আটক করা হয় ১ টি পিকআপ ও ২টি সিএনজি অটোরিকসা।

গত বছরের ৮ মাসে সিলেট জেলায় ৪৩১টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ২৮৪টি, হবিগঞ্জ জেলায় ২৫৬টি ও মৌলভীবাজার জেলায় ৩৮২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কেবল দু’বছরের অভিযানে আটক মাদকদ্রব্যের হিসেব মেলালে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

এর বাইরেও মাদক ব্যবসায়ীরা খোদ সিলেট নগরীসহ সিলেট বিভাগের সর্বত্র মাদকের ‘কারবার’ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মাদকের ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন। এজন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি এদের গডফাদারদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন’র সিলেট জেলা সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মাদকের আগ্রাসন আগের তুলনায় বেড়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল মাদক ব্যবসায়ীদেরই নয় তাদের গডফাদারদেরকেও গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবেই।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলেট’র অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহিদ হোসেন মোল্লা জানান, আমাদের জনবল তুলনামূলক কম। তবুও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার ৮ মাসের অভিযানে কয়েকগুণ বেশি মাদক উদ্ধার হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে মাদক নিয়ে আসে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে যাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের তুলনায় সিলেট অঞ্চলে মাদকের উপস্থিতি বেড়েছে। অভিযানগুলোর পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া যায়। তবে আমরা কিন্তু জিরো টলারেন্সে আছি।

শেয়ার করুন