২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনের হাওয়া শুধু পৌর এলাকায় নয় গোটা উপজেলা জুড়ে আমেজ ছড়াচ্ছে। সর্বত্রই চলছে প্রচার প্রচারণা। চলছে ভোট ও পছন্দের প্রার্থী নিয়ে আলাপ-আলোচনা এবং বিশ্লেষণ। উৎসবমুখর এখন পৌর এলাকা।
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ আসনের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারের মন জয় করে সমর্থন আদায়ে প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করে শহরের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন।
পৌরসভাকে আরও উন্নত ও আধুনিকতায় সাজানো, পৌরবাসীর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে নিজেদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনী আমেজ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন। এখানে নির্বাচনে দলের চাইতেও গোষ্ঠী বড় ফ্যাক্টর। ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা আর গোষ্ঠীর প্রভাব দেখে ভোট দেন এখানকার ভোটাররা। অতীতের পৌর নির্বাচনগুলো গোষ্ঠীগত ভোটই বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠেছিলো বলে সাধারণ ভোটারদের মতামত।
আগামী ৩ অক্টোবরের নির্বাচনে চার মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ২১ হাজার ৬৩২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৯শ ৫৮ জন এবং ১০ হাজার ৬শ ৭৪ জন। মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে কেবল আওয়ামী লীগ। আর কোনো দলের প্রার্থী নেই। বিএনপির দুই নেতা দলীয় প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের আরেক নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এখানে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) মহিউস্সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক (স্বতন্ত্র প্রার্থী) আমিনুল ইসলাম রাবেল এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর থেকে প্রার্থীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে হাস্যোজ্জ্বলভাবে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শেষমেশ তাদের প্রার্থী দিলেও প্রার্থীর হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র না থাকায় এবং দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের মূল কপি না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এখন পর্যন্ত মেয়র পদে ভোটার জরীপে জগ মার্কায় এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক (স্বতন্ত্র প্রার্থী) আমিনুল ইসলাম রাবেল এবং পাশাপাশি হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে আছেন বিএনপির দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন ও মহিউস্সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, আমাকে আপনারা ভোট দিয়ে পৌরবাসীর সেবা করার সুযোগ দিন কথা দিলাম আমি মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর জন্য দরজা সব সময় উন্মুক্ত থাকবে। সেবার জন্য আমার কাছে আসতে হবে না। সেবাই আপনাদের কাছে ছুটে যাবে। দুর্নীত, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়তে চাই। এ জন্য আপনাদের ভোটের জন্য প্রার্থনা করছি।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস জানান, নির্বাচনী গণসংযোগে যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই সমর্থন পাচ্ছি। আমি এই এলাকার মানুষের জন্য অতীতে কাজ করেছি। নীতি নৈতিকতা বিরোধী কোন কাজ করিনি; তাই পৌরবাসী আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিটার্নিং অফিসার খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে কমিশন সচেষ্ট রয়েছে। কোন প্রার্থী আচরণনবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে সব মেয়র প্রার্থীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচন অফিসকে সহায়তা করার আহ্বান জাননো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মৃত্যুবরণ করায় মেয়র পদটি শূন্য হয়। এরপর শূন্য পদে উপনির্বাচনের জন্য তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৩ অক্টোবর মেয়র পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।