২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভাটি এলাকায় উভয় তীরের ডুবন্ত বাঁধ বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। এ কারণে প্রতি বছরই খোয়াই নদীর বন্যায় হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও বানিয়াচং উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়া ছাড়াও ফসল এবং সহায় সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেয়া খোয়াই নদী প্রকল্পের আওতায় সীমান্তবর্তী বাল্লা থেকে হবিগঞ্জ শহরের পশ্চিম দিক পর্যন্ত নদীর উভয় তীরে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হয়েছে।
এছাড়াও নদীর ভাটি এলাকায় লম্বা বাঁক থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত নদীর উভয় তীরে ৩৬ কিলোমিটার ডুবন্ত (সার্বমার্জেবল) বাঁধ নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাঁধ মেরামত না করায় পাহাড়িয়া এই নদীতে বন্যা দেখা দিলে অতি সহজেই নদীর পানি ডুবন্ত বাঁধ উপচে জনপদ ও ফসলের জমি প্লাবিত করে।
হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার নৌকাঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় করে নদীর প্রান্ত সীমানায় ধলেশ্বরী/মেঘনা নদীর মিলনস্থল পর্যন্ত পরিদর্শন করে দেখা যায়, ডুবন্ত বাঁধের কোনো কোনো স্থানে বড় বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও ডুবন্ত বাঁধ অস্তিত্ব হারিয়ে নদী তীরের সাথে মিশে গেছে। নদীর পানি আর হাওরের পানি সমান্তরাল অবস্থানে রয়েছে। মাঝখানে ডুবন্ত বাঁধের রেখাটুকু পানিতে ভাসছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম.এল সৈকত জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নদীর ভাটি এলাকায় ডান পাশে রাধাপুর থেকে বাজুকা পর্যন্ত ১৬.০২ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ পুনরাকৃতিকরণের কাজ আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হবে।
এছাড়া, প্রক্রিয়াধীন খোয়াই নদী পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মূল বাঁধ মেরামত ও প্রশস্তকরণ, নদীভাঙ্গন রোধ এবং চুনারুঘাট উপজেলার গাজী-কালু মাজার থেকে রাজারবাজার পর্যন্ত স্থানে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প তৈরির জন্য একটি কারিগরি কমিটি কাজ করছে।