৩০ আগস্ট ২০১৮


সিটি নির্বাচনে বিশ্বাসঘাতকদের রেহাই নেই : ওবায়দুল কাদের

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় এমনি-এমনি হয়নি। দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নৌকাকে ডুবিয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে অনেক অভিযোগ পড়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই আমরা সিলেটে এসেছি। নির্বাচনে যারা আত্মবিনাশী কাজ করেছেন তাদের রেহাই নেই। আমি সিলেটে কেবল ভাষণ দিতে আসি নাই, সিসিক নির্বাচন নিয়ে যেসকল অভিযোগ উঠেছে সেগুলোকে খতিয়ে দেখতে এসেছি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। বিশ্বাসঘাতক কেউই রেহাই পাবেন না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সিলেটে চাইলে আওয়ামী লীগ জোর করে জিততে পারত। কিন্তু শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন কারচুপি করে জয়ের স্বপ্ন-অভিলাস আমাদের নেই। সিলেটে অনেক হয়েছে, কারা কী করেছেন তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ হলে যত বড় নেতা হন না কেন কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপরাধের দায় হাওয়া ভবনের যুবরাজ তারেক রহমান কি এড়াতে পারবেন? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় খালেদা জিয়া সরকার ক্ষমতায় ছিলো। গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হলেন। খালেদা জিয়া সরকার এই হামলার মাস্টারমাইন্ড। হাওয়া ভবনের ‘যুবরাজ’ কি এই হামলার দায় এড়াতে পারে? পারে না!

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করেই হামলা করা হয়। এই অপরাধের দায় খালেদা জিয়া কি অস্বীকার করতে পারেন? হামলার তদন্তে এফবিআইকে কাজ করতে দেয়া হয়নি। সাদেক হোসেন খোকা সমস্ত আলামত নস্ট করেছেন। অথচ বিএনপি মিথ্যাচার করেছে শেখ হাসিনা নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে এসেছে আত্মহত্যা করার জন্য। বিএনপির কাজই মিথ্যাচার করা।
তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার শিকার আমিও। সেই সময় রক্তের মধ্যে আমিও পড়ে গিয়েছিলাম। ১৪ বছর আমি চেয়ারে বসতে পারি না, নামাজে সিজদা দিতে পারি না। কাদের অত্যাচারে এমন হলো?

ইভিএম প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা নির্বাচনে ইভিএম-এর দাবি করেছি যুক্তি দিয়ে। তবে ইভিএম ব্যবহারে আপরাদের (বিএনপি) আপত্তি কোথায়? তবে যতই চক্রান্ত করুন না কেন বাংলাদেশে আর ২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না। ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সকাল ১০টার আগেই ভোটের ভোট শেষ, সেই নির্বাচন বাংলাদেশে আর হতে দেয়া হবে না। আমরা জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করব। কারা কারা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া বসে ষড়যন্ত্র করছে সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। ষড়যন্ত্রের চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত বাংলার জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করব।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সিলেট-৩আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

(আজকের সিলেট/৩০ আগস্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন