৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮


‘বাঁশের সাঁকো’ দিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় ১০/১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ সাঁকো পাড়ি দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারে যাতায়াত এবং পরস্পর যোগাযোগের একমাত্র সড়কে দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছরেও পাকা সেতু নির্মাণের ‘স্বপ্নপূরণ’ হয়নি এলাকাবাসীর। এ সড়ক দিয়ে অন্তত ১০/১৫টি স্থানীয় গ্রামের লোকজন দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন।

ইউনিয়নের ‘জান মোহাম্মদ’র খালের ওপর ওই বাঁশের সাঁকো এসব গ্রামের লোকজনের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন পরিদর্শন এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বশিরপুর – জামালপুর – দেওয়ানবাজার সড়কের বনগাঁও এবং জামালপুর এ দুই গ্রামের মধ্যবর্তী ‘জান মোহাম্মদ’র খালের ওপর প্রায় ৪৬ বছর যাবৎ এ বাঁশের সাঁকোটি রয়েছে। ১৯৭২-৭৩ সালে এ খালের ওপর পাকা সেতু স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের কলঙ্কিত ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

১শ’ ১০ফুট দীর্ঘ এ সাঁকো দিয়ে জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল এ- কলেজ, বনগাঁও মহিলা মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী এবং ওপারের স্থানীয় বনগাঁও, জটারগাঁও, দৌলতপুর, জগন্নাথপুর, বশিরপুর, তালতলা গ্রামসমূহের লোকজন দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন পরিষদসহ পার্শ্ববর্তী খালেরমুখ বাজার ও আজিজপুর বাজারসহ বিভিন্নস্থানে এদিক-ওদিক যাতায়াত করেন।

একই ভাবে স্থানীয় বনগাঁও জামালপুর মুমিনপুর শাহী ঈদগাহে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এসব গ্রামের লোকজনকে এ সাঁকো পারাপার হতে হয়। এছাড়াও আশপাশ এলাকার আজিজপুর, মুমিনপুর, রঘুপুর, শিওরখাল, নিয়ামতপুর, হায়দরপুর, আনোয়ারপুর প্রভৃতি গ্রামের লোকজন এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কমপক্ষে প্রায় ৪৬ বছর যাবৎ ওখানে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত চলছে। এখানে পাকা সেতু না থাকায় দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কমপক্ষে ৬টি গ্রামের লোকজনকে পার্শ্ববর্তী দু’টি ইউনিয়নের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

জামালপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান ১৯৭০ সালে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বশিরপুর – জামালপুর – দেওয়ানবাজার সড়কের ‘জান মোহাম্মদ’র খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের বরাদ্দ প্রদান করেন। সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ১৯৭৫ সালের কলঙ্কিত ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে গ্রামবাসীরা পরস্পর মিলেমিশে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছেন।

সিলেট জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জুয়েল আহমদ, দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমদ আলী কাচা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মিল হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুল ইসলাম, দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল এ- কলেজ গভর্ণিং বডির সদস্য তজমুল আলী, জামালপুর গ্রামের শাহিন আহমদ, বনগাঁও গ্রামের সেলিম আহমদ, দৌলতপুর গ্রামের মো. খসরুজ্জামান, তালতলা গ্রামের এম রাজা চৌধুরী এবং দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য খন্দকার আব্দুর রকিব প্রমুখ এলাকাবাসী বশিরপুর – জামালপুর – দেওয়ানবাজার সড়কের ‘জান মোহাম্মদ’র খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন