২৯ আগস্ট ২০১৮
অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট বিভাগের চার জেলায় বিআরটিএ-এর (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৪৬টি গাড়ির বিপরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক রয়েছেন মাত্র ৯৩ হাজার ৭০২ জন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের তুলনায় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার বেশি। রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি হিসেব করলে সেই সংখ্যা ১ লক্ষ এর উপরে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টিকে অবহেলা করা ও দপ্তরটিকে গুরুত্ব না দেয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের বিশিষ্টজনেরা।
সিলেট বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ-এ বিআরটিএ কার্যালয় থাকলেও মূলত সিলেটকেন্দ্রিক কার্যক্রম সর্বাধিক। মোট ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৪৬টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ির মধ্যে শুধু সিলেট বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ি ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৭৬টি। বাকি তিন জেলায় মোট রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ি ৭০ হাজার ৫৭০টি। একইভাবে সিলেট বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯৩ হাজার ৭০২ জন চালকের মধ্যে সিলেট বিআরটিএ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক আছেন প্রায় ৭০ হাজার। জেলাওয়ারি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্সের মধ্যে পেশাদার ও অপেশাদার- এ দুই ধরনের লাইসেন্স রয়েছে।
পেশাদারের মধ্যে আবার রয়েছে হালকা, মধ্যম, ভারী ও পাবলিক সার্ভিস অর্থাৎ ৪ ধরনের লাইসেন্স। পেশাদারদের ক্ষেত্রে প্রথমে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দেয়া হয়। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে তা মধ্যম, ভারী ও পাবলিক সার্ভিসে উন্নীত হয়। পূর্বে বিষয়টি পরীক্ষার ব্যাপার ছিলো না। চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির নিহত হওয়ার পর পরীক্ষার বিষয়টি সংযুক্ত হয় বলে জানান তারা।
তবে, সিলেটে কোন ধরনের গাড়ি কতটি এবং কোন প্রকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক কতজন সেই হিসাব দিতে পারেনি বিআরটিএ এর সিলেট বিভাগীয় অফিস। বিষয়টি সময় সাপেক্ষ বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এদিকে, বিআরটিএ অফিসের হিসেব মতে, তাদের দেয়া রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়িগুলো থেকে গড়ে প্রতি ২টি গাড়ির মধ্যে একটিতে লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছেন। অপরদিকে, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি হিসেব করলে সেই হার আরো বাড়তে পারে। তবে, বিআরটিএ-এর মতে ছোট গাড়ি বিশেষ করে মোটর সাইকেল ও সিএনজি অটোরিক্সায় লাইসেন্সবিহীন চালক বেশি রয়েছে।
এদিকে, অপেশাদার ও হালকা লাইসেন্স নিয়ে অনেকে আবার ভারী যানবাহন চালাচ্ছেন। অনেকে আবার জাল লাইসেন্স নিয়েও গাড়ি চালাচ্ছেন বলে চালকদেরই অনেকে জানান। গত ৮ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জে একটি ড্রাম ট্রাক ও সিএনজি অটোরিক্সার সংঘর্ষে দুই সহোদর ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ মোট ৩জন নিহত হন। পরে ১০ চাকার ভারী ড্রাম ট্রাকের চালককে পুলিশ আটক করলে দেখা যায়, তার হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু সে ভারী ড্রাম ট্রাক চালাচ্ছিল।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের তুলনায় দ্বিগুণ গাড়ি চলাচল করছে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি? জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক জানান, বাস-মিনিবাসে লাইসেন্সবিহীন কোনো চালক নেই। লাইসেন্স না থাকলে কোনো চালকে গাড়িতে উঠতে দেয়া হয় না। কিন্তু ছোট গাড়িগুলোতে লাইসেন্সবিহীন চালক বেশি। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি। সে জন্য বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি সহজীকরণ করা প্রয়োজন। যিনি দক্ষ চালক তাকে দ্রুত লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা উচিত। বিআরটিএ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এ ব্যাপারে সিলেটের বিশিষ্ট আইনজীবী ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি ইইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এদিকে নজর না দেয়ায় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের মধ্যে এ বিরাট ব্যবধানের সৃষ্টি হয়েছে। তাই, যারা লাইসেন্স চাচ্ছেন তারা যেন দ্রুত এবং কোন ভোগান্তি ছাড়া লাইসেন্স পেতে পারেন-তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, রাস্তায় একজন চালকের সাথে অনেকের জীবন জীবিকা জড়িত। তাই চালকের যোগ্যতা ও দক্ষতা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।
(আজকের সিলেট/২৯ আগস্ট/ডি/এসটি/ঘ.)