২৩ জুলাই ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় রুপনা বিশ্বাস (১৩) মনিকা বিশ্বাস (১৪) নামে দুই আপন চাচাতো বোন এক সঙ্গে আত্মহনন করেছে। কী কারণে তারা আত্মহত্যা করতে পারে এমন ধারণাও কেউ দিতে পারছে না।
সোমবার বিকেলে রাজনগর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের দেবরবন্দ গ্রামের মৃত হিরেন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে রুপনা বিশ্বাস (১৩) ও তার চাচাতো বোন সুনীল বিশ্বাসের মেয়ে মনিকা বিশ্বাস (১৪) প্রায় একই সঙ্গে থাকতো। রুপনা পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী ও মনিকা ২০১৭ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে বাদ দিয়ে দেয়।
সোমবার সকাল ১১ টার দিকে কিশোরীদ্বয়ের মা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে রাজনগর উপজেলা সদরে যান। এসময় তারা বাড়িতেই ছিল। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মনিকা বিশ্বাসের ছোট বোন দশম শ্রেণির ছাত্রী কনিকা বিশ্বাস পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরে প্রবেশের সময় সামনের দরজা বন্ধ দেখতে পায়। এসময় সে গরু ঘরের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে দু’জনকে ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন জড়ো হন। কনিকা রুপনা গলায় রশি ও ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে বাড়ির লোকজন রশি ও ওড়না কেটে লাশ দুটি নামায়।
খবর পেয়ে রাজনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মহত্যার আলামত সংগ্রহ করে এবং লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এদিকে কনিকা বিশ্বাস ও রুপনা বিশ্বাসের একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কি কারণে আত্মহত্যা করতে পারে এমন ধারণাও কেউ দিতে পারছে না।
দুই কিশোরীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ও রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
(আজকের সিলেট/২৩ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)