২০ জুলাই ২০১৮


ওসমানী বিমানবন্দরে এগারো যাত্রীর লাগেজ ‘গায়েব’

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্রুদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, সময় ক্ষেপণ, বিলম্বে ফ্লাইট ছাড়াসহ ঘাটে ঘাটে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন ফ্লাই দুবাইয়ের যাত্রীরা। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বেপরোয়া আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। গতকাল বুধবারও দুবাই থেকে সিলেটে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের ইকে ২১৬৩ ফ্লাইটের যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ওই ফ্লাইটের ১১ যাত্রীর ১৯টি লাগেজ ‘গায়েব’ হয়ে যায়। এ ঘটনায় কর্তপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের কাছে কোনো ধরণের বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পরে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠলে এক কর্মকর্তা এসে কয়েকদিনের মধ্যে যাত্রীদের লাগেজ ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, গত বুধবার ফ্লাই দুবাইয়ের ইকে ২১৬৩ নামের একটি ফ্লাইট ৫টা ২০ মিনিটের সময় সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে দুবাই থেকে আসা ১১ যাত্রী বেল্টে তাদের লাগেজ খুজে পাননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ফ্লাই দুবাই কর্তৃপক্ষের কোনো সহায়তা পাননি বলে যাত্রীদের অভিযোগ। ঘন্টাখানেক পরে ফ্লাই দুবাইয়ের শারমিন নামের এক কর্মকর্তা এসে যাত্রীদের বলেন, লাগেজ দুবাইয়ে রয়ে গেছে। কয়েকদিন পরে আসবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা।

এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ইমিগ্রেশনের পর আমরা প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করেছি লাগেজের জন্য। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাইকে কোনো ‘এনাউন্স’ দেওয়া হয়নি। পরে আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই। তাতেও কোনো সাড়া দেয়নি তারা। পরে শারমিন নামের এক কর্মকর্তা এসে আমাদের বলেন, আপনাদের লাগেজে দুবাইয়ে রয়ে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে আপনাদের কাছে পৌছানো হবে। কবে নাগাদ পাওয়া যাবে যাত্রীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সিউর করে বলা যাচ্ছে না। আপনাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে। ওই যাত্রী বলেন, আমাদের লাগেজে অনেক পচনশীল জিনিস রয়েছে। দুএকদিনের মধ্যে না আসলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন- ফ্লাই দুবাইয়ে ৫ ঘন্টার যাত্রায় যাত্রীদের কোনো ধরনের খাবার এমনকি পানিও দেয়া হয়না। নিজের টাকায় কিনে খেতে হয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

আরেক যাত্রী বলেন, ওসমানী বিমান বন্দরে বিদেশাগত যাত্রীদের লাগেজ প্রদানের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সময় ক্ষেপণ করানো হয়। সেখানে সাধারণ যাত্রী বা বিজনেস ক্লাসের যাত্রী হিসেবে আলাদা কোনো কদর পায় না কেউ। কেবিন ক্রু থেকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণের পাশাপাশি হুমকি-ধমকিতে যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তোলা হয়। নানা রকম ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের হয়রানী করা হয়। সেখানে যাত্রীদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের ভাগ্যে জোটে নির্দয় আচরণ।

এক যাত্রী বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশিরা। তারা দেশে ফেরা ও কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই চরম হয়রানির শিকার হন। ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসব প্রবাসী কর্মজীবীর সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করেন।

তিনি আরো বলেন, যাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, সেই প্রবাসী কর্মজীবীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ খুবই ন্যক্কারজনক।

যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরের বাইরের তুলনায় ভেতরের ঘাটে ঘাটে হয়রানি-ভোগান্তি কয়েক গুণ বেশি। যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর পুলিশ, কাস্টমস, কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরতদের একটা বড় অংশই নিয়মিত যাত্রী হয়রানি করছে।

এছাড়াও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতি নেই। বড়শালায় প্রধান চেকপোস্টে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ সদস্যরা যখন যতো জনকে প্রবেশের অনুমতি দেন। সেটাই নিয়ম হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। এতে করে প্রতিনিয়ত দুর দুরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষেরা হয়রানী আর বিব্রত পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকেন।

স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, বড়শালা চেকপোস্ট থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর হবে এয়ারপোর্টের অবস্থান। এখানে গাড়ী থামিয়ে সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয়। শুধু ১ জনকেই ভেতরে যেতে দেওয়া হয়। কখনো ২ বা ৩ জনকেও যেতে দেখা যায়। কিন্তু মহাবিপদে আর বিব্রত পরিস্থিতিতে রেখে যান মহিলা ও শিশুদের। কখনো কখনো এমন হয় শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে পড়ে সেখানকার পরিবেশ। এটা যাত্রীদের বিপাকে ফেলা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ওসমানী বিমানবন্দর ম্যানেজার হাফিজ আহমদ বলেন, কোনো যাত্রীর লাগেজ বা যেকোনো কিছু হারালে বা না আসলে ‘এনাউন্স’ করার দায়িত্ব বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের না। এটি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের।

তিনি বলেন, ফ্লাই দুবাই কর্তৃপক্ষ আমাদের আমাদের ‘এনাউন্স’ করার কথা বললে আমরা বিষয়টা দেখতাম। ওসমানী বিমানবন্দরে এনাউন্স করার ব্যবস্থা রয়েছে।

(আজকের সিলেট/২০ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন