১৮ জুলাই ২০১৮
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার নিজামুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে রোজগার করে সংসারের আয় বাড়াবে। সেই স্বপ্নকে সাথী করে দালালের মাধ্যমে স্বপ্নের দেশ গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান রওয়ানা হন। ইরান যাওয়ার পথে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নিজামুল ইসলাম নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের পুত্র। পরিবারের লোকজন তার কোনো হদিস না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। পাশাপাশি বাড়িতে চলছে মাতম।
জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর পূর্বে নিজামুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে ওমানে পাড়ি জমান। সম্প্রতি ওমানে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি সেখানে অবৈধ হয়ে যান। এরই মধ্য তার পরিচয় হয় ইরান ফেরত দালাল নবীগঞ্জের দিনারপুর এলাকার দেওপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সাথে। দালাল দেলোয়ার জানায়, ওমানে তার লোক আছে। ওমান থেকে গ্রিস যেতে চাইলে প্রথমে ইরান আসতে হবে। আর ইরান থেকে তাকে গ্রিস পাঠাবে। দেলোয়ারের কথানুযায়ী নিজামুল ওমানে দালালের সাথে কথা বলে ২ লাখ টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
নিজামুলের বড় ভাই নাজমুল জানায়, তিনি দালাল দেলোয়ারকে অগ্রিম দেড় লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা পরে দেবার কথা। গত এক সপ্তাহ আগে দেলোয়ারের কথামতো ওমানে অবস্থানরত দালালরা সড়কপথে (বাইরোডে) নিজামুলকে ওমান থেকে ইরান পাঠায়। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। নিজামুলের বড় ভাই নাজমুল খোঁজ নিয়ে দেখেন সে এখনো ইরান পৌঁছেনি।
দালাল দেলোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, তিনি খবর নিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ নিজামুল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দুবাই জেল হাজতে রয়েছে। আবার বলছে ইরান জেলে আছে। ফলে উৎকণ্ঠায় আছেন নিজামুলের পরিবারের লোকজন। সে জীবিত না মৃত বা কোথায় কিভাবে আছে তা-ও তারা জানে না।
নিজামুলের বড় ভাই নাজমুল জানায়, আমার ভাই কোথায় আছে সে খবরটি জানতে দালাল দেলোয়ারের সাথে বার বার যোগাযোগ করছি। কিন্ত সঠিক কিছু বলছে না। একেক সময় একেক কথা বলছে। এ ব্যাপারে তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
(আজকের সিলেট/১৮ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)