৮ জুলাই ২০১৮

শাবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি মৌনমিছিল বের হয়ে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে মৃত্তিকার সহপাঠী আনিকা তাবাসসুম বলেন, “ মৃত্তিকার স্বামী আব্দুল্লাহ জুবেরির পরকীয়া ছিল বলে মৃত্তিকা আমাদের আগে বলেছিল। তার স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করতো। শারীরিকভাবে নির্যাতনের কারণে মৃত্তিকা পরিবারের কাছে আসলেও তাকে সহায়তা করা হয়নি।”
“এমনকি মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও স্বামীর নির্যাতনের কারণে নিজ বাড়িতে চলে এসেছিল মৃত্তিকা। পরবর্তীতে পরিবার থেকে সহায়তা না পেয়ে সে আবার স্বামীর বাড়ি ফিরে গেলে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমান গত ৩জুলাই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে মৃত্যবরণ করেন।
নিহতের পরিবার ও স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা দাবি করে পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। ফলে মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন মৃত্তিকার বন্ধুসহ তার বিভাগের শিক্ষকরা।
মৃত্তিকার স্বামী আব্দুল্লাহ জুবেরির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড়ের শাখায় কর্মরত।
সমাবেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক উদ্দিন বলেন, মৃত্তিকা আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের মনে হয় না। আর আত্মহত্যা করলেও কেন করেছে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।