৪ মার্চ ২০২২
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ডিজিটাল প্রতারকদের শিকার হয়ে ভুয়া এসএমএসের ফাঁদে পড়ে উপবৃত্তির টাকা খোয়াচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ক্ষোভ জানিয়েছেন, দাবী করেছেন সুষ্ঠু তদন্তের।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তাদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বরের মাধ্যমে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতারকেরা কোমলমতি অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে ডিজিটাল কায়দায় গোপন নম্বর হাতিয়ে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংকিং সম্পর্কে জ্ঞান কম থাকায় ও তাদের সরলতার সুযোগে নিয়ে প্রতারকেরা এমন অপকর্ম করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদক কথা বললে জানান, প্রথমে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ‘প্রিয় শিক্ষার্থী! Coronavirus(COVID-19) এর কারণে তোমাদের উপবৃত্তির বকেয়ার ৪,৯০০ টাকা বিকাশ এর মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। টাকা গ্রহনের জন্য নিন্মোক্ত শিক্ষাবোর্ডের নাম্বারে যোগাযোগ করুন। ০১৮৪৫৯৬১৮৮৭, ০১৮৭৭৯৭৭৬৩৪’ লিখা এসএমএস আসে। পরে বিকাশের অফিসার পরিচয় দিয়ে কল করে বলা হয়- ‘ছয় সংখ্যার কোড নম্বর জানতে চাই’। আরও বলা হয়, কোড নম্বর না বললে একাউন্টটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং উপবৃত্তির টাকা আর পাওয়া যাবে না। প্রতারকদের এমন কথায় বিশ্বাস করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাউন্টের সব তথ্য জানিয়ে দেয়। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলেও ততক্ষণে একাউন্ট থেকে টাকা হাওয়া।
শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রিতু আক্তারের মা জানান, গ্রামের অনেকেই বলাবলি করছে মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা আসছে। শুনে মেয়ের বাবাকে মোবাইল চেক করতে বললে সেও জানাই টাকার একটা মেসেজ আসছে। এদিন দুপুরে একজন কল করে উপবৃত্তির টাকার বিষয়ে কি সব জানতে চাইল। পরের দিন টাকা তুলতে গেলে এজেন্ট জানায় ব্যালেন্সে কোন টাকা নেই।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার শিউলির অভিভাবক জানান, আমার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেটে যাই। হাতে তেমন টাকাও ছিল না। এদিন বিকাশের অফিসার পরিচয় দিয়ে একটি কোড নম্বর জানতে চাইলে সাথে থাকা মেয়ের সাহায্য নিয়ে কোড বলে দেয়। পরে বিকাশের দোকানে গিয়ে টাকা তুলতে গেলে এজেন্ট জানায় প্রতারকেরা আপনার সব টাকা নিয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাদাঘাট সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জানান, আমাকে কল করে বলা হয়, একাউন্টের হালনাগাদ এর কাজ করা হবে। আপনি বিগত দিনের উপবৃত্তির বকেয়ার সব টাকা একসাথে পাবেন। দয়া করে আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মেনে সহযোগিতা করবেন। আমিও তাতে রাজি হয়ে একাউন্টের পিন ও মেসেজে আসা সিকিউরিটি কোড জানিয়ে দেয়। পরে একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করে দেখতে পায় কোনও টাকা নেই।
স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট সোহেল আহমেদ সবুজ জানান, ‘সহজ-সরল গ্রাহকদের বোকা বানিয়ে প্রতারকেরা উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারিত হওয়ার পর অনেকেই আমাদের মত এজেন্ট এর কাছে ছুটে আসেন। কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না।’
স্থানীয় বিকাশ কাস্টমার কেয়ার এর জুনিয়র অফিসার হোসাইন কবির জানান, শিক্ষার্থীদের গাফলতি ও সচেতনতার অভাবে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। কারণ, একাউন্টের পিন ও ওটিপি শেয়ার না করলে কেউ-ই টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে না।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ নিয়ে কোন অভিযোগ পায়নি। তবে প্রতারণা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন আরও উদ্যেগী হোন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুরু থেকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর বেশি আমাদের করণীয় নেই।’