১১ জুলাই ২০১৮


কামরানে ‘ঐক্যবদ্ধ’ আ.লীগ, আরিফে ‘বিভক্ত’ বিএনপি

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : দুয়ারে কড়া নাড়ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) চতুর্থ নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জুলাই হবে ভোট গ্রহণ।  তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ নিয়ে একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিক নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ পাওয়া ৭ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় নামলেও আলোচনা চলছে চারজনকে ঘিরে। এদের একজন সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নৌকা প্রতিক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকা কামরানের পক্ষে একাট্টা এখন আওয়ামী লীগ পরিবার। তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে জোরে-শোরে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি।

তাঁর আগাম প্রচারণায়ও স্বত:স্ফূতভাবে মাঠে নেমেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সিটি নির্বাচন যেন ‘ঐক্যের সূতোঁয়’ আবদ্ধ করেছে গোটা আওয়ামী লীগকে। সেই সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদলগুলোর নেতারা কামরানকে আনুষ্ঠানিক সমর্থক জানিয়ে ‘ভোট পর্যন্ত’ তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। দল ও জোটের আগাম সমর্থন ও তাঁর বিজয় নিশ্চিতে তাদের কর্মতৎপরতায় ভোটের লড়াইয়ের আগেই অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন কামরান। ঠিক বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে সিলেটের বিএনপি তথা ২০দলীয় জোটে।

মেয়র পদে বিএনপি ও জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। এদের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মেয়র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি লড়ছেন দলীয় প্রতিক ধানের শীষ নিয়ে। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। আর জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন দলটির সিলেট মহানগর আমির এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকা এই দুই প্রার্থী নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছে বিএনপি।

বিশেষ করে আরিফ ও সেলিমকে নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে বিভেদ-বিভাজনও সৃষ্টি হয়েছে। মেয়র পদে দলের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশিসহ বিএনপির বড় একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে আরিফের বিরুদ্ধে। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতাকে আরিফের পাশে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তারা তার পাশে থাকবেন কি-না এ নিয়েও সংশয়, শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থী নিয়ে বিএনপির এহেন লেজে গোবরে অবস্থা দলে ঐক্যের পরিবর্তে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভক্ত করে ফেলছে।

অপর দিকে বিএনপির মিত্র জামায়াত নেতাকর্মীরাও দলের মেয়র প্রার্থী এডভোকেট জুবায়েরকে নিয়ে প্রচারণায় নেমেছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, পাড়া-মহল­ায় বিলি হচ্ছে প্রচারপত্র। যদিও দলের বিদ্রোহী ও জামায়াত প্রার্থীকে বসে আনতে বিএনপির পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুফল মিলছে না। নির্বাচনী সিদ্ধান্তে সেলিম-জুবায়ের অটল থাকায় বিএনপির সব প্রচেষ্ঠাই ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ভোটের আগেই চরম বেকায়দায় ফেলেছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হককে। যদিও ৯ জুলাইয়ের অপেক্ষায় আছেন আরিফ।

ওইদিনই সেলিম ও জুবায়ের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন- এমন আশা তাঁর। কিন্তু কোনো চাপ বা প্রলোভনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন দুই মেয়র প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও মহানগর জামায়াতের আমির এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এ প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমিতো বিএনপির প্রার্থী না। এই নগরীতে জন্ম আমার। এই মাটিতেই বড় হয়েছি। আমি নাগরিক কমিটির প্রার্থী। বিএনপির তৃণমূলের প্রার্থী।

মেয়র প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমির এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই মেয়র প্রার্থী হয়েছি। আশা করি ২০দলীয় জোট আমাকে সমর্থন জানাবে। বরিশাল ও রাজশাহীর প্রার্থীকে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

(আজকের সিলেট/১১ জুলাই/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন