৪ আগস্ট ২০১৮
ডেস্ক রিপোর্ট : ফের ভাসমান ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছে নগরীর শেখঘাট এলাকার কাজিরবাজার সেতুর বহুলাংশ। সেতুর উপর ফুচকা, চটপটি, চায়ের দোকান নিয়ে বসেছে তারা। ফলে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই সেতুর উপরে থাকা একটি চটপটির ভ্যান ঝড়ে উড়ে এসে পড়ে যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসা নিহত হওয়ার পর প্রশাসন সেতু থেকে ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে। এরপর কিছুদিন সেতুটি হকার শূন্য ছিলো। তবে সম্প্রতি ফের কাজিরবাজার সেতুর দখল নিয়েছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা।
কাজিরবাজার সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর উপরই ৭টি চটপটির, ৩টি আইসক্রিমের ও ৪টি বাদামের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন হকাররা।
উদ্বোধনের পর থেকেই এ সেতুর দুই পাশে পথচারী চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতের পুরোটাই চটপটি-ফুচকাওয়ালাসহ অন্যান্য হকাররা দখলে রাখে। ফুটপাত ছাড়িয়ে যান চলাচলের অনেকাংশও দখল করে রাখে তারা। ফলে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই সেতু দিয়ে হাঁটা এবং যান চলাচল করতে হয়।
গত ২৯ মার্চ রাতে মোটরসাইকেলে করে এ সেতু পেরোনোর সময় ঝড়ে সেতুর উপর থাকা একটি চটপটির ভ্যান এসে পড়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোসাদ্দেক হোসেন মুসার উপর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাথেসাথেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার অবশেষে তিনি মারা যান। এরপর টনক নড়ে পুলিশের। সেতু থেকে হকারদের উচ্ছেদে নামে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় খালি করা হয় কাজির বাজার সেতু। তুলে দেওয়া হয় সব হকারদের। তবে সম্প্রতি আবার হকারদের দখলে চলে গেছে সেতুটি।
ঘুরতে আসা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, অনেকদিন হকার শূন্য থাকা কাজীরবাজার সেতুটি ফের দখলে নিয়েছে হকাররা। প্রশাসন তাদেরকে সেতুতে বসতে বারণ না করলে পুরো সেতুটি আগের মত হকারদের দখলে চলে যাবে।
সেতুতে ঘুরতে আসা দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মারুফ ও বায়োজিদ জানান, যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসার মৃত্যুতে কাজীরবাজার সেতু হকার না থাকায় ঘুরতে আসা সকলেই স্বাচ্ছন্দ্যে সেতুর দুই পাশ ব্যবহার করছেন। নতুন করে হকার বসায় অজানা আতঙ্কে আছেন সেতুটির ব্যবহারকারীরা।
কাজিরবাজার সেতুতে চটপটি ফুসকা বিক্রির সময় কথা হয় অপু এন্ড রিয়া চটপটি ও ফুসকা দোকানের মালিক আলমগীরের সাথে। তিনি জানান, যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে কাজির বাজার সেতু থেকে আমাদের তুলে দেয় এলাকাবাসী ও পুলিশ। দীর্ঘদিন এখানে ব্যবসা করতে না পারায় খুব কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে সেতুটি ঘিরে ব্যবসার উপর নির্ভর প্রায় ২০০ হকারকে। নতুন করে আবারো ব্যবসা করতে বসেছি।
এখানে ব্যবসা করতে না পারলে আমরা কোথায় যাব এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, প্রতিদিনইতো দেশে অনেক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সিএনজি অটোরিক্সা দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে কি সব অটোরিক্সার চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, সেতুর উপর আবার ভাসমান ব্যবসায়ী বসেছে বলে জানা ছিলো না। সেতুর উপর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না।
(আজকের সিলেট/৪ আগষ্ট/ডি/এসসি/ঘ.)