২৬ জুন ২০১৮


বন্যায় বেহাল মৌলভীবাজারের সড়ক যোগাযোগ

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : বন্যায় মৌলভীবাজারের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ভাঙন ও খানাখন্দ দেখা দিয়েছে। পানি নেমে যাওয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে এসব ভাঙাচোরা।

মৌলভীবাজারের বন্যা কবলিত এলাকার অধিকাংশ রাস্তারই এখন করুণ অবস্থা। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। ফলে বেহাল হয়ে পড়েছে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, বন্যায় মৌলভীবাজার-কুলাউড়া, ব্রাহ্মণবাজার-শমসের নগর, রবির বাজার-পীরের বাজার, জুড়ি-ফুলতলা, মৌলভীবাজার-শমসের নগর-চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও মৌলভীবাজার পৌরসভার যোগীডর এলাকার বাস টার্মিনালের কাছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একাধিক জায়গা ভেঙে গেছে।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৌলভীবাজার-শমসের নগর-চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের সড়কটি। এ সড়কের শরিফপুর ইউনিয়নের মনু নদের সেতুর পাশে একটি বড় কালভার্ট দেবে গেছে এবং প্রায় ৪০ মিটার সড়ক অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ কারণে চাতলা শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, পানির তীব্র স্রোতে তাদের মোট ১ হাজার ৬শ’ কিলোমিটার পাকা সড়কের অন্তত ৪শ’ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আদমপুর, আদমপুর-ইসলামপুর, আদমপুর-মাধবপুর, ভানুগাছ-মাধবপুর উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার অধিকাংশ পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় সড়কের বেহাল দশাজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মনু ও ধলাই নদের ২৫টি স্থান এবং কুশিয়ারার একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন এবং কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন পাকা সড়কে বড় বড় গর্ত হয়েছে।

জানা যায়, গত ১২ জুন থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট প্লাবণে মৌলভীবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। মৌলভীবাজার সদরের সঙ্গে সিলেট ও জেলার ৪ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ৩ দিন বন্ধ ছিল। পানি নেমে যাওয়ায় এখন বেরিয়ে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। এখনো শহরের সেন্ট্রাল রোডটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে সেদিকে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত ৪ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামত করে কোনোরকম যোগাযোগ সচল রাখা হয়েছে। তবে বন্যা পরবর্তী সময়ে সড়কের বেহাল দশা হওয়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

সরেজমিন রাজনগর উপজেলার কদমহাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মনু নদের ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে মৌলভীবাজার-রাজনগর ভায়া সিলেট ও কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বিশালাকার জায়গা জুড়ে ভাঙন রয়েছে। সেখানে ইট পাথর ফেলে যোগাযোগ সচল রাখলেও রাস্তাটি দুর্ঘটনা প্রবণ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া পানির তোড়ে রাস্তার পাশ ভেঙে সংকীর্ণ হয়ে আছে। যাতে বালুর বস্তা ফেলে পাশ চওড়া করে রাখা হয়েছে। ঢলের পানিতে ক্ষয়ক্ষতির এমন চিহ্ন পৌর এলাকায়ও রয়েছে। ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের বড়হাট এলাকায় ডিভাইডিং ভেঙে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। কোথাও আবার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভাঙন রয়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।

বন্যায় সড়কের বেহাল দশাপৌর বাস টার্মিনালে হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস পরিবহনের চালক ছালিক মিয়া বলেন, সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে বাস চালিয়ে আসলাম। শহরে ঢোকার ৪ কিলোমিটার এলাকায় এতো বেশি ভাঙাচোরা যে-এটুকু রাস্তা আসতে ২০ মিনিট সময় বেশি লেগেছে।

গাড়ির যাত্রী কবির রেহান বলেন, ৫ দিন হল বন্যায় বাড়িঘরের অবস্থা জানার জন্য সিলেট থেকে মৌলভীবাজার আসতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে শুনে আর আসিনি। আজ আসলাম কিন্তু রাস্তার বেহাল দশায় শরীরের অবস্থাই খারাপ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জানান, চার উপজেলায় তাদের ছোট বড় অনেক সড়ক তলিয়েছিল বন্যার পানিতে। পানির তোড়ে সড়কের পিচ, খোয়া ও মাটি ভেসে গেছে। সড়কের মুখে ও বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিশাল গর্ত হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কার ও মেরামতের জন্য কমপক্ষে শত কোটি টাকার বেশি লাগতে পারে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, বন্যায় সওজের রাস্তাঘাট, ব্রিজ- কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরো কিছু সময় লাগবে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

(আজকের সিলেট/২৬ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন