২০ জুন ২০১৮


বন্যার প্রভাবে আশানুরুপ পর্যটক নেই মাধবকুণ্ডে

শেয়ার করুন

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নাম শুনতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এর রূপমাধুরী। প্রতি বছর ঈদ এলেই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে ভীড় জমে পর্যটকদের। গত বছর ঈদের ছুটিতে জেলার সীমান্তবর্তী এ উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতসহ প্রাকৃতিক স্থানে ছুটে আসেন পর্যটকরা।

তবে এবার পর্যটনে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। জেলাসদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলায় বন্যার কারণে বড়লেখার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে দূর-দূরান্তের পর্যটকরা আসতে পারছেন না। আশানুরূপ পর্যটক না আসায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পর্যটন কেন্দ্রীক ব্যবসায়ীরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের প্রথম দিন শনিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিন দিনে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার এ জলপ্রাপাতে পর্যটক সংখ্যা কম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের ছুটিতে মানুষজন মাধবকুণ্ডে ভীড় জমাচ্ছেন। কেউ স্ব-পরিবার, কেউ আবার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। তবে আগত পর্যটকদের বেশিরভাগই বড়লেখা ও আশপাশ উপজেলার মানুষ। এ জলপ্রাপাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটন কেন্দ্রীক এ ব্যবসায়ীরা ঈদ উপলক্ষে দোকানে নতুন পণ্য তুলেছিলেন। তবে পর্যটক সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা।

কথা হয় আদিবাসী ও মনিপুরী বস্ত্র বিতাণের মালিক আবুল হোসেন ও হেলাল আহমদের সাথে। তাঁরা বলেন, ‘অন্য বছর থেকে লোকজন কম। আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।’

মাধবকুণ্ড পর্যটন পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পর্যটক কম। বন্যার কারণে আসতে পারছেন না। যারা আসছেন তারা লোকাল (স্থানীয়) লোক। পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। অনেকে পাহাড়ে চূড়ায় উঠার চেষ্টা করেন। আমরা তাদের বারণ করছি।’

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘প্রতি বছরের চেয়ে এবার পর্যটক সংখ্যা কম। বন্যার কারণেই মূলত এ অবস্থা হয়েছে। মৌলভীবাজারের দিক থেকে গাড়ি আসতে পারছে না। দূরপাল্লার কোনো গাড়িই আসেনি। জুড়ী-বড়লেখা লোকজনই বেশি।’

(আজকের সিলেট/২০ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন