১০ জুন ২০১৮


ফুটপাতে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : ‘ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পিঠে শার্ট লাগিয়ে মাপ দিচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। বিক্রেতা টেনেটুনে শার্টের কর্ণারগুলো শরীরের সাথে মিলিয়ে দিচ্ছেন। একজন মহিলাও তাকে সেই কাজে সাহায্য করছেন। মহিলার হাতে ডাক্তারি বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার নানা কাগজপত্র।

কাছে গেলে সলজ্জ হেসে উঠে জানান, অসুস্থ শরীর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই, ঈদে কিছুই কেনার ইচ্ছে ছিলো না। কিন্তু স্ত্রীর অনুরোধ, ঈদে যেনো একটি কিছু কিনি। তাই, একটি হাফ শার্ট নিলাম। সাধ্যের মধ্যে সাধ মিটানোর চেষ্টা আর কি?’

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ছোট-বড় সব মার্কেটের পাশাপাশি নগরীর ফুটপাতগুলোও ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, জমে উঠছে স্বল্প আয়ের মানুষের ফুটপাতের বাজার। আয় কম বলে নামিদামি শপিংমলগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার সুযোগ কম থাকায় তাদের ঈদের কেনাকাটায় ফুটপাত অন্যতম উপায়। ইতোমধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদের কেনাকাটায় ভিড় করছেন নগরীর ফুটপাতগুলোতে।

যদিও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন এখনো ঈদের বাজার পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে আজ-কালকের মধ্যেই শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বন্দবাজার, জিন্দাবাজার, কোর্টপয়েন্টে, চৌহাট্টা, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন পোশাক, জুতা, সেন্ডেল সাজিয়ে বসেছেন তারা। ক্রেতারাও আসছেন দাম দর করছেন।

দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড়, জুতা সেন্ডেল পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। ফুটপাতের বাজারে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪০০টাকা, জিন্স প্যান্ট ৩০০-৫০০টাকা, টি-শার্ট ১৫০-৩০০টাকা, বাচ্চাদের প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার জিন্স প্যান্ট ১৫০-৩৫০, জুতা ২০০-৪০০ টাকা, সেন্ডেল ১৫০-২৫০ টাকা, মেয়েদের সেন্ডেল ১০০-১৫০টাকা, বাচ্চাদের জুতা সেন্ডেল ১০০-১৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ২৫০-৫০০ টাকা, বাচ্চাদের শার্ট গেঞ্জি ৫০-৬০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও, পাওয়া যাচ্ছে লুঙ্গি, স্যান্ডু গেঞ্জি, বেল্ট, টুপি, আতরসহ প্রয়োজনীয় নানা দ্রব্য। তবে মেয়েদের পোশাক খুব একটা দেখা যায় না ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

এদিকে, তুলনামূলক কম দামে ফুটপাতের পণ্য পাওয়া যায় বলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের লোকজনকেও ফুটপাতে ভিড় করতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম রেখেছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের মধ্যে। এদিকে আবার, ঝামেলা এড়াতে ও সময় বাঁচাতে একদামে বেচাকেনা করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

বন্দরবাজারের ফুটপাতের জুতা ব্যবসায়ী রবিউল জানান, ক্রেতারা আসছেন, বিক্রিও বাড়ছে। তবে জমজমাটভাবে বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। বাবার সাথে বাজারে এসেছে ছোটমণি রিমন। নতুন কাপড় পড়ে দেখছে মাপ ঠিক আছে কি-না।

তার পিতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, নির্দিষ্ট টাকায় ঈদের বাজার করতে হবে। দেখছি পছন্দ হলে নিয়ে নেব। দাম মোটামুটি ঠিক থাকলেও ঈদ এলে তাদের সাথে কথা বলারও সুযোগ পাওয়া যায় না। যে দাম বলে তা দিয়েই নিতে হয়।

শ্রমিকের কাজ করে তরুণ ফারুক জানান, ঈদের জন্য জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। এখনো পছন্দ হয়নি। ব্যবসায়ীরা এখনো দাম ছাড়ছেন না। তবে দামেদরে হলে কিনে নিব।

সরকারি অফিসের কর্মচারী সুরুজ মিয়া বলেন, ছেলে মেয়েদের নিয়ে এসেছি ভিড় লাগার আগেই বাজার শেষ করতে চাই। না হলে পরে দামদর করারও সুযোগ থাকে না।

পোশাকের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মান নিম্ন হওয়ার যে আশঙ্কা ক্রেতাদের তা সবসময় সত্য নয় জানিয়ে পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী সরওয়ার জানান, আমাদের এসি খরচ নেই, লাইট খরচ নেই। তাই, কম দামে কাপড় বিক্রি করতে পারি।

তিনি বলেন, তিনি পাঞ্জাবি বিক্রি করছেন এক দাম ৪৫০ টাকায়। এসব পাঞ্জাবিই মার্কেটে গেলে অনেক দাম হয়ে যায়। তবে ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের নানা ভোগান্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।

(আজকের সিলেট/১০ জুন/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন