১১ জুন ২০১৮
মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : পূণ্যময় মাস রমজানের বিদায়ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আজ ২৫তম রমজান, রোজ সোমবার। রোজাদার প্রতিক্ষণে আল্লাহকে হাজির-নাজির জানেন। তাই প্রচন্ড ক্ষুধা-পিপসার যন্ত্রণা সহ্য করেন আল্লাহর মহব্বতে। পবিত্র কোরআন মজিদে রমজান ও রোজাসম্পর্কিত বর্ণনার ফাঁকে আল্লাহর নৈকট্যের অনুভব ও তার কাছে দোয়ার তাৎপর্য ব্যক্ত হয়েছে এভাবে, ‘হে নবী, যখন আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জানতে চায়, আপনি তাদের বলে দিন যে, আমি তো নিকটেই? আহŸানকারী যখন আমাকে আহŸান করে, তখন আমি তার আহŸানে সাড়া দেই। কাজেই তাদের উচিত আমার আহŸানে সাড়া দেয়া, আমার প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখা। আশা করা যায় যে, তারা সঠিক পথে পরিচালিত হবে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)।
বান্দা আল্লাহর কতখানি কাছে, তার তথ্যও ব্যক্ত হয়েছে অন্য আয়াতে- ‘আমি তার কাছে তার গর্দানের শাহরগের চেয়েও কাছে।’ (সূরা ক্বাফ : ১৬)।
নৈকট্য বোঝানোর জন্য এর চেয়ে সূ² সাবলীল উদাহরণ আর হতে পারে না। আমরা রেডিও-টিভিতে খবর শুনি, মুহূর্তে দেশ-বিদেশের খবর পাই ঘরে বসে। আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে খবর ও ছবি উধাও হয়ে যায়। আল্লাহর নৈকট্যের দর্শন বোঝার জন্য আমরা এ ছোট্ট উপমাটির সাহায্য নিতে পারি। আল্লাহ পাক বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমেোদর স্মরণ করব। তোমরা আমার শোকর আদায় কর এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাকারা : ১৫২)।
এ স্মরণে স্বয়ং রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে মনের সংযোগ ঘটে, সাধকরা মনের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত দেখেন পরম প্রেমাস্পদকে। কীভাবে? আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।’ (সূরা হাদিদ : ৪)। আল্লাহ সর্বাবস্থায় আমাদের সঙ্গে আছেন- এ সত্যটি অন্তরে বদ্ধমূল করার জন্যই রমজানের উপবাসব্রত ও এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। এটিই ইসলামের আধ্যাত্মিক দর্শনের মূলকথা। আল্লাহ পাক আরও চাক্ষুষভাবে উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন।
‘আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোনো পরামর্শ হয় না, যেখানে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচজনেরও হয় না, যেখানে তিনি ষষ্ঠ থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সঙ্গে আছেন। তারা যা করে, তিনি তা কেয়ামতের দিন তাদের জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা মুজাদালা : ৭)।
কিন্তু এ নৈকট্য ও সান্নিধ্য আমরা টের পাই না। কারণ আমরা কলবের রেডিও, টিভি সেট বা হাতের মোবাইলের নেটওয়ার্ককে ঠিকমতো সঙ্গত করতে পারি না। বাতাসে ইথারের মতো সৃষ্টি জগতের সর্বত্র বিরাজমান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত, মহব্বত; এমনকি তার অস্তিত্বের পরশ অনুভব করতে হলে আমাদের কলব হতে হবে পরিচ্ছন্ন আয়নার মতো নির্মল। আর ভালোবাসা ও নিষ্ঠায় একাগ্র ইবাদত এবং জিকিরে-ফিকিরে আল্লাহর সঙ্গে সঠিকভাবে মনোসংযোগ করতে হবে। কেবল তখনই বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো আল্লাহর রহমতের সঞ্চালন আসে আরশ থেকে, মানুষের মন ও জীবনকে আলোকিত ও উজ্জীবিত করে আত্মিক প্রেরণায়।