৯ জুন ২০১৮
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ভ্যাপসা গরমে সীমাহীন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্দ জনতা। শনিবার দুপুর ২টায় মহাসড়কের গোয়ালাবাজারে অবরোধকালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কাশিকাপন অফিসের ডিজিএমের অব্যাহতির দাবিতে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগিরা।
এসময় আয়োজিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, যুবনেতা দিলদার আলী, ইউসুফ চৌধুরী, রুয়েল আহমদ, ইকবাল আহমদ, আলমগীর মিয়া, জাকির হোসেন, আব্দুল গাফফার, হোসাইন আহমদ মিঠু, শাহরিয়ার সিজিল রুদ্রর, উজ্জ্বল দেব প্রমুখ।
খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদ উল্লা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিলে বিক্ষুব্দ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
১৫মিনিট স্থায়ী এ অবরোধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক শতাধিক যান আটকা পড়ে। ফলে প্রচন্ড গরমে যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন।
উল্লেখ্য, বিগত এক মাসের অধিক সময় এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ- রমজান শুরুর পর সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্ত থেকে পরদিন সকাল ৮ থেকে ১০টা পযন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় অব্যাহত থাকে।
১৪-১৫ ঘন্টার দীর্ঘ এই সময়ে গ্রাহকরা তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ সুবিধা পান না। ফলে জ্যৈষ্ঠের এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরীতে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র আওতাধীন কাশিকাপনস্থ বালাগঞ্জ জোনাল অফিস, বালাগঞ্জ সদরস্থ এরিয়া অফিস, মাদরাসা বাজার অভিযোগ কেন্দ্র, ওসমানীনগরের সাদিপুর অভিযোগ কেন্দ্র, উমরপুর অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের চলমান এই বিপর্যয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সেবা পাওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হেনস্থার শিকার হতে হয়।
গ্রাহকরা জানান-ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, হামতনপুর, সিকন্দরপুর, কামালপুর, মাধবপুর, হাবসপুর, মজলিসপুর, মান্দারুকা, আব্দুল্লাহপুর, মামনপুর, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের দত্তগ্রাম, নিজ করনসী, জায়ফরপুর, জহিরপুর, তেরহাতী, নোয়ারাই, ভেরুখলা, ভাগলপুর, সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর, লামা গাভুরটিকি, হলিমপুর, গাভুরঠিকি, ইব্রাহীমপুর, মঙ্গলপুর, তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, চরইসবপুর, আইলাকান্দি, ভাড়েরা, সৎপুর, নাগেরকোণা, উছমানপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া, রাউৎখাই, তাহিরপুর, উছমানপুরপুর, পড়িয়ারখাই, মির্জাপুর, লামাপাড়া, বেড়াখাল, রাঙ্গাপুর, আলীপুর, কবুলপুর, ধনপুরসহ বুরুঙ্গা ইউনিয়ন, দয়ামীর ইউনিয়ন ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া বালাগঞ্জের দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন, বোয়ালজুড় ইউনিয়ন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন ও পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ- একদিকে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আর অপরদিকে কয়েক দফা বিদ্যুতের মূল্য (ইউনিট) বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা সত্তে¡ও গ্রাহকদেরকে প্রতি মাসে ভূতুড়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দুই উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর থেকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেনো রমজান মাসের নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এনিয়ে গ্রাহকরা ডিজিএম থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট সমস্যার কথা জানানো তো দূরের কথা তারা ফোনই রিসিভি করেন না। কোনো কোনো সময় ফোন রিসিভ হলে কিংবা গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে গ্রাহকরা হেনস্থার শিকার হন।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বরাদ্দ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। যার জন্য লোডশেডিং না করে উপায় নেই। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকে ইফতার, সেহরী ও তারাবি নামাজের সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা। আশা করছি ১২ তারিখের পর এ সমস্যা আর থাকবে না।
(আজকের সিলেট/৯ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)