১১ জুন ২০১৮


জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

শেয়ার করুন

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লোকজন ছুটছেন বিপণী বিতানসমূহে। জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সকলেই ভিড় করছেন মার্কেটে- মার্কেটে। কিনছেন পছন্দের জামা-কাপড়। ক্রেতাদের পদভারে মুখরিত দোকানগুলো।

নগরীর বিপণী বিতানগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশ ভালোই। তবে ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, জামা-কাপড়ের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেককে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঈদের বাজারে বাহারী নামের কাপড় : ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নগরীর অভিজাত বিপণী বিতানসমূহ, ফ্যাশন হাউসগুলোতে বাহারী নামের জামা-কাপড় কালেকশন করেছেন ব্যবসায়ীরা। অভিজাত ফ্যাশন হাউস মাহা, শী, চন্দ্রবিন্দু, কমলাভান্ডারসহ ফ্যাশন হাউসগুলোতে ভারতীয় তৈরি ড্রেস ও শাড়িতে ভরপুর।

এর বাইরে আছে দেশীয় তৈরি কাপড়ও। নগরীর বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতেও ভারতীয় শাড়ির আধিক্য দেখা গেছে। ভারতীয় শাড়ির মধ্যে রয়েছে বেলগাঁও কাতান, বেঙ্গালুরু কাতান, ইতকাত শাড়ি, যোগা সিল্ক, গাধুয়াল সিল্ক, এন.ডি গাধুয়াল, পাশমিনা কাতান। ড্রেসের মধ্যে রয়েছে, গারারা, চায়না গাউন, মাচাক্কালী, এক্সক্লুসিভ বোম্বে পার্টি ড্রেস, এক্সক্লুসিভ দিল্লি পার্টি ড্রেস, অর্গানজা-ওগেনডি, দিল্লি স্টাইল, কারারাসহ বাহারী নামের জামা-কাপড়।

জমে উঠেছে কেনাকাটা : বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, বারুতখানা, নয়াসড়ক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। তরুণীরা পছন্দের ড্রেস কিনছেন। সাথে কিনছেন পরিবারের অন্যদের জন্যও।

মধুবন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা তরুণী ফাতেমা বেগম জানান, দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় এ মার্কেট থেকে দু’টি জামদানী কাপড় কিনেছেন তিনি।

শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, তুলনামূলকভাবে এখন ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে জমে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের যেন কথা বলার ফুরসত নেই। ব্লু-ওয়াটার মার্কেটের ব্যবসায়ী সামিউল চৌধুরীও কেনাকাটার ব্যাপারে একই তথ্য জানিয়েছেন।

ক্রেতাদের ভিড় কেবলই বাড়ছে : ঈদকে সামনে রেখে দিনকে দিন ক্রেতাদের ভিড় বেড়েই চলেছে। বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে ভারতীয় শাড়ি ও ড্রেস থাকলেও দেশীয় তৈরি জামা-কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে বেশি। ভারতীয় ড্রেস সর্বনিম্ন সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা, শাড়ি সর্বনিম্ন ৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা, এক্সক্লুসিভ ড্রেস ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোতে বাহারী পাঞ্জাবীও পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকায়। আড়ং, মনোরম, কাশিশসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে দেশীয় তৈরি জামা-কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

এবার বিক্রি বেশ ভালো : গতবারের চেয়ে এবার ঈদের কেনাকাটা বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন ফ্যাশন হাউস শী’র এমডি ডা: নাবিলা নুজহাত চৌধুরী।

তিনি বলেন, নয়াসড়ক থেকে শী বর্তমানে মিরবক্সটুলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি বেশ ভালোই। আমাদের এখানে দামও সহনীয় পর্যায়ে। এবার ক্রেতাদের উপস্থিতি ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মনোরম’র স্বত্বাধিকারী চৌধুরী মোহাম্মদ সুহেল।

তিনি জানান, দু-একদিনের মধ্যে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরো বাড়বে।

এদিকে, বাজারে ভালোমানের জামা-কাপড়ের কালেকশন থাকলেও দাম চড়া বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ক্রেতা। নয়াসড়কে মোস্তাক আহমদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা রয়েছে বলে দামও নেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে।

পরিশেষে ক্রেতা-বিক্রেতারা সন্তুষ্ট : ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মার্কেটের সামনে টহল পুলিশ ছাড়াও মাঠে কাজ করছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন পদক্ষেপে নির্বিঘেœ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

ফ্যাশন হাউস মাহা’র স্বত্বাধিকারী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, সকাল ১০টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন। এর ফলে নির্বিঘেœ ব্যবসা করা যাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার কেনাকাটাও হচ্ছে ভালো। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।

(আজকের সিলেট/১১ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন