৬ জুন ২০১৮


অপহরণের ৫ দিন পরেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় কয়েকজন যুবক বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে কুলাউড়া থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি একটি উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল মিয়া (২৮) নামের প্রতিবেশী এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। মেয়েটির স্বজনেরা একাধিকবার রুবেলের পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেও ফল পাননি।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার মেয়ের ভাইয়ের সঙ্গে রুবেলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মেয়ের স্বজনেরা স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে বিচার চান।

মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রুবেল ও তার ভাই জুয়েলের নেতৃত্বে চার-পাঁচ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মেয়েটির ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ঘরে শুধু মেয়ে ও তার মা ছিলেন। একপর্যায়ে ওই যুবকেরা মেয়েটির মুখে কাপড় গুঁজে জোর করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে চলে যায়।

এ সময় মা বাধা দিলে তাকে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়া হয়। পরে মেয়ের স্বজনেরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। ওই দিন রাতে মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে রুবেল, রুবেলের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া (২৫), তাদের মা রাবেয়া বেগম (৪২), বোন সীমা বেগম (২৬) ও একই এলাকার বাসিন্দা আছকর আলীকে (৩২) আসামি করে মামলা করেন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল রবিবার কুলাউড়া থানায় যান। এ সময় মেয়ের স্বজনরাসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা তার সঙ্গে দেখা করে মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধারসহ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এসপি এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্থ করেন।

মেয়েটির বাবা জানান, তার ছেলের সঙ্গে রুবেলের ঝগড়ার বিষয়টি সুরাহার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ১ জুন রাত ৯টায় পৌরসভা কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে হাজির থাকতে বলেন। এ কারণে ওইদিন রাতে পৌরসভা কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। এরই মধ্যে মেয়েকে অপহরণ করা হয়।

কুলাউড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র জানান, দ্রুত ওই মেয়েকে উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

কুলাউড়া থানার ওসি শামীম মুসা জানান, অপহরণের মামলা হয়েছে। আমরা ভিকটিমকে উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। রুবেল বখাটে প্রকৃতির। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে রুবেল ও জুয়েলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর দিন থেকে তাদের পরিবারের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

(আজকের সিলেট/৬ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন