৪ জুন ২০১৮


অ্যাকুরিয়ামের সম্ভাবনাময় বিরল মাছ ‘নাপতে কৈ’

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রকৃতির কোলজুড়ে নানা রঙের, বিভিন্ন ধরনের প্রাণবৈচিত্র্য। এদের কোনো কোনোটা আমরা ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। কোনোটাকে আবার দেখেছি। দেখা-অদেখা সব ধরনের জীববৈচিত্র্যই আমাদের প্রকৃতির মূল্যবান সম্পদ।

তেমনি অদেখা এ প্রকারের অদ্ভুত প্রজাতির মাছের নাম ‘নাপতে কই’। ইংরেজি নাম Indian spike fish এবং বৈজ্ঞানিক নাম Ctenops nobilis।

শহরকেন্দ্রিক জীবনধারায় আজ ড্রইংরুম বা অবসরকক্ষের বিশেষ একটি শোভাবর্ধনকারী বস্তুর নাম অ্যাকুরিয়াম। দিনদিন বেড়েই চলেছে অ্যাকুরিয়াম প্রেমীদের সংখ্যা। অ্যাকুরিয়ামপ্রেমীরা অনায়াসে এ প্রজাতির দেশিয় মাছটি ক্ষুদ্র পরিসরে চাষ করতে পারেন। ঘরের কোণে জীবন্ত এ মাছের রঙিন ডানা ঝাপটাতে ভরে যাবে হৃদয়।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, নাপতে কই’র মাছটির অপর একটি নাম নফতানি। এই মাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এরা প্রজনন মৌসুমে মুখের লালার সাহায্যে আঠালো বুদবুদ তৈরি করে বাসা বেঁধে প্রজনন করে। পুরুষরা স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওযার পর তাদের মুখে ডিম সংগ্রহ করে রাখে এবং বাচ্চাদের দেখাশোনা করে।

পুরুষ নাপতে কৈ’র পাখনাগুলো বেশি স্পষ্ট এবং রঙিন। ঘন আগাছাময় অগভীর ডোবা, পুকুর, বিলে এদের বেশি দেখা যায়। জলজ কীট, ছোট পোকামাকড় ও প্রাণি প্লাংটন খেয়ে বেঁচে থাকে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর শারীরিক গঠন প্রসঙ্গে এ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, নাপতে কৈ’র দেহে লম্বালম্বি আঁইশের সংখ্যা ২৯-৩২। বর্ণ ঘন জলপাই হতে সবুজ বর্ণের, পৃষ্ঠবর্ণ অধিক গভীর। চোখ কানকোর কোণ পর্যন্ত বাদামি ডোরা ও মাথায় বাদামি দাগ দেখা যায়। পৃষ্ঠ ও পুচ্ছ পাখনা সারি সারি কালো ফোঁটাযুক্ত, পাখনার কিনারা বিস্ময়করভাবে শ্বেতদবল।

নাপতে কৈ অ্যাকুরিয়াম মাছ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে অ্যাকুরিয়ামেও প্রজনন করে। কৃত্তিম প্রজননের ব্যবস্থা করা গেলে ‘অ্যাকুরিয়াম ফিস’ হিসেবে মাছটির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ।

(আজকের সিলেট/৪ জুন/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন