৩ জুন ২০১৮


নবীগঞ্জে কিশোরের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার

শেয়ার করুন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : নবীগঞ্জে নিখোঁজের ৪ দিন পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে এক কিশোরের আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাওছার পানিউমদা ইউনিয়নের চাতল গ্রামের হায়দর আলীর পুত্র।

শনিবার রাতে নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে পাহাড়ের ভেতর একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জামাকাপড় দেখে লাশটি কাওছার মিয়ার বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

কাওছারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে সন্ধ্যার পর কাওছার তাদের বাড়ির নিকটে বাড়ির পাশে একটি চা-দোকানে যায়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকার কাছুম আলীর ছেলে দুরুদ মিয়ার সঙ্গে বাড়ির ফেরার পথে নিখোঁজ হয় কাওছার। এরপর থেকে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে কাওছারের পিতা নবীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন।

পরবর্তীতে শনিবার স্থানীয় রাখালরা এলাকার একটি ডোবার পাশে গরু চড়াতে গেলে পচা দুর্গন্ধ পান। সে সময় ডোবার দিকে এগিয়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা।

পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে গোপলারবাজার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পরপরই একই গ্রামের কাছুম আলীর পুত্র দুরুদ মিয়া ও পানিউমদা পানিউমদা গ্রামের সুফি মিয়ার পুত্র জগলু মিয়া (২৮)কে আটক করে পুলিশ। জগলু মিয়ার কাছ থেকে নিহত কাওছারের শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের পিতা হায়দর মিয়ার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই আমার ছেলেকে তারা এইরকম হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম আতাউর রহমান বলেন, ৪দিন আগে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা থানায় জিডি করে এবং পুলিশ এবিষয়ে তদন্তও করে। ৪দিন আগে হত্যাকাণ্ড হওয়ার ফলে লাশটি পচন ধরে গেছে। যেহেতু তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল ধারণা করা হচ্ছে এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছি, ইতিমধ্যে আমারা সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করেছি, আশা করি শীঘ্রই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হবে।

এ ঘটনায় কাওছারের পিতা হায়দর আলী বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

(আজকের সিলেট/৩ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন