২৯ মে ২০১৮


ছাতকে লাল ফিতায় বন্দি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের অভাবে প্রায় কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ফাইল বন্দি হয়ে আছে লাল ফিতায়। উন্নয়ন কাজের প্রকল্প সংশিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হলেও টাকা বরাদ্ধ না পাওয়ায় কাজ করতে পারছেন না স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানরা। ফলে এখানের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরাজমান সমন্বয়হীনতার দূরত্ব আরো প্রকট আকার ধারন করছে।

আর স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সমন্বয়হীনতায় এখানের গ্রামীণ জনগোষ্ঠি বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কাংখিত উন্নয়ন থেকে।

জানা যায়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠির উন্নয়নে বছরের শুরুতেই এডিপি ফান্ডের প্রায় ৯৭ ল টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয় এখানে। সম উন্নয়নের স্বার্থে প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকল্প জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয় উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা থেকে। প্রায় চার মাস আগে প্রত্যক ইউপি চেয়ারম্যান স্ব-স্ব ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জমা দেন।

প্রকল্প অনুযায়ী পকেটের টাকা খরচ করে প্রকল্পের কাজ শুরুও করেছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান বিল­াল আহমদসহ ক’জন চেয়ারম্যান দাবী করছেন।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে ১৯ এপ্রিল সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এ ব্যাপারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এডিপি ফান্ডের ৯৭ ল টাকা উন্নয়নের ভিত্তিতে ১৩টি ইউনিয়নের অনুকুলে সর্ব সম্মতিক্রমে বন্টন করা হয়।

কিন্তু বরাদ্ধকৃত এডিপি ফান্ডের টাকা বন্টনের এক মাস অতিক্রান্ত হলেও অদৃশ্য মতাবলে সব কিছুই এখন ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফলে সরকারের মেয়াদের প্রায় শেষের দিকে গ্রামীন জনগোষ্ঠি তাদের ন্যায্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ছাতক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক চেয়ারম্যান উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন প্রায় ৪ মাস আগে। বরাদ্ধ পাওয়ার আগেই কয়েকজন চেয়ারম্যান কাজও করিয়েছেন বলে তার দাবী।

উপজেলা পরিষদ নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে এডিপি ফান্ডের এ টাকা বন্টন করা হয়। কিন্তু পরিষদের উপদেষ্টা সংসদ সদস্য নিজ মতাবলে কোটি টাকার এ উন্নয়ন কাজ আটকে রেখেছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া জানান, জন প্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার কারনে উন্নয়ন কাজটি আটকে আছে। বিশেষ করে এমপির সাথে ৫ চেয়ারম্যানের বিরোধের কারনেই আপাতত কাজটি আটকে আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিস্পত্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, এমপি মহোদয় মতার অপ ব্যবহার করে উন্নয়ন কাজটি আটকে রেখেছেন। পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে পরিষদের সভায় উপদেশ দেয়ার অধিকার রয়েছে এমপির। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার শুধু মাত্র উপজেলা পরিষদের।

দেশের বাইরে থাকার কারনে এ ব্যাপারে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

(আজকের সিলেট/২৯ মে/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন