৭ জুন ২০১৮
মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : আজ বৃহস্পতিবার নাজাতের প্রথম দিন। ইতিকাফ অর্থ স্থির থাকা, অবস্থান করা। শরিয়তের পরিভাষায়, জাগতিক কার্যকলাপ ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সওয়াবের নিয়তে মসজিদ বা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান বা স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে।
ইতিকাফের সময় হলো ২০ রমজান, সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের তালাশে প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম, এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন, অতঃপর ওহি পাঠিয়ে আমাকে জানানো হলো, তা শেষ ১০ দিনে। তাই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ পছন্দ করে, সে যেন ইতিকাফে বসে।’ (মুসলিম : ১৯৯৪)।
ইসলামের ইবাদত বা উপাসনার বিধান পুরোহিত শ্রেণীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়, সবার জন্য অবারিত। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মধ্যে এ দর্শনটি অত্যন্ত সমুজ্জ্বল। আর যারা হৃদয়ের গহিনে আল্লাহর সঙ্গে সম্বন্ধের যোগসূত্র মুঠোয় পেতে আগ্রহী, তাদের জন্য দেয়া হয়েছে ইতিকাফের বিধান। রমজানের শেষ ১০ দিন দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে একান্ত আল্লাহর হয়ে যেতে হবে সে মানুষকে। আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের এ পদ্ধতি ইসলাম আসার আগেও বলবৎ ছিল। একবার হজরত ওমর (রা.) নবীজির কাছে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! জাহেলি যুগে আমি একদিন মসজিদুল হারামে ইতিকাফ করব বলে মানত করেছিলাম। নবীজি বললেন, তোমার মানত পূর্ণ কর।’ (মিশকাত : ২০০০)। ইতিকাফের মানত করলে তা পালন করা ওয়াজিব হয়ে যায়। রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া। মহল্লার কোনো একজন যদি মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করে, তাহলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। অন্যথায় একটি বড় সুন্নত লঙ্ঘনের দায়ে সমাজের সবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর নফল ইতিকাফ একদিন বা ১০ দিন নয়, স্বল্প সময়ের জন্যও হতে পারে। এর কিছু বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। আবু দাউদ শরিফের রেওয়ায়াতে হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘ইতিকাফকারীর কিছু নিয়ম পালন করা আবশ্যকÑ ১. সে কোনো রোগীকে দেখতে যাবে না; ২. কোনো জানাজায় হাজির হবে না; ৩. স্ত্রীর সঙ্গে মেলমেশা করবে না এবং ৪. একান্ত বাধ্য না হলে মসজিদ থেকে বের হবে না। রোজা অবস্থায় ও জামে মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ শুদ্ধ হয় না।’ (মিশকাত : ২০০৪)। ইতিকাফ মানে বান্দা সম্পূর্ণ আল্লাহর হয়ে যাওয়া। মসজিদে সঙ্গিদের সঙ্গে গল্প করা, মোবাইলে ফোনালাপ, গোসল করতে বেশি সময় লাগানো এসব ইতিকাফের মেজাজের বরখেলাফ। ইতিকাফে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুর চিন্তা থেকে মনকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কেবল আল্লাহর ধ্যান-খেয়ালে মগ্ন থাকতে হবে। তবেই ইতিকাফ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়।