৬ জুন ২০১৮


ইফতার বিনিময়ের সওয়াব

শেয়ার করুন

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : আজ বুধবার। মাগফিরাত দশকের শেষ দিন। যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার জন্য তা গোনাহগুলোর ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং দোজখের আগুন থেকে তার মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে সেই রোজাদার ব্যক্তির সমান, অথচ রোজাদারের সওয়াবও কিছুমাত্র কম হবে না।
সাহাবিরা (রা.) বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ্য রাখে না, যা দ্বারা রোজাদারদের ইফতার করাতে পারে? হুজুর বললেন, আল্লাহ তায়ালা এ সওয়াব ওই ব্যক্তিকে দান করবেন, যে কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দ্বারা অথবা একটি খেজুর দ্বারা বা এক ঢোক পানি দ্বারা। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায়, (কিয়ামতে) আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউস (কাওসার) থেকে পানীয় পান করাবেন, যার পর সে বেহেশতে প্রবেশ করা পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মিশকাত)। হাদিস শরিফের এ বর্ণনা দেখে আমাদের অবাক হতে হয়। কারণ অপরকে ইফতার করানোর বিনিময়ে একসঙ্গে কমপক্ষে তিনটি সওয়াব। যেমনÑ ১. ইফতার করানেওয়ালার গোনাহগুলো মাফ হওয়ার কারণ হওয়া; ২. তার দোজখ থেকে মুক্তির কারণ হওয়া; ৩. রোজাদার ব্যক্তির সমান সওয়াবের ভাগী হওয়া। মানবীয় যুক্তি ও বুদ্ধি এখানে হয়রান হয়ে যায়। সামান্য একটু খাবার দিয়ে কাউকে ইফতার করানোর বিনিময়ে এতখানি সওয়াব, জীবনের উন্নতি ও সৌভাগ্য! এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কত গভীরে? দুই চোখ বন্ধ করে আমরা আবারও ভাবনার স্রোতে তলিয়ে যাই। একজন রোজাদার সারা দিন অনাহারে কাটিয়েছে; ক্ষুধা-পিপাসার অসহ্য যন্ত্রণা সয়েছে; দিনভর খাটুনিতে শ্রান্ত, কান্ত, অবসন্ন তার শরীর, ক্ষুধায় যেন প্রাণ যায় যায়; গ্রীষ্মের উত্তপ্ত বালুকার মতো পিপাসার তাড়নায় তার ওষ্ঠাগতপ্রাণ, মনে হয় দুনিয়ার সব খাবার একই গ্রাসে সাবাড় করে ফেলতে পারবে। ঠা-া পানির গোটা কয়েক কলসি পেটে ঢুকালেও বোধহয় পিপাসা আরও থেকে যাবে। এ অবস্থায় উপস্থিত হলো ইফতারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সময়। সামান্য খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে তার সামনে ইফতারের অপেক্ষায়। সম্ভবত এ অবস্থায়ই দুনিয়ার মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বার্থপর, লোভাতুর ও ভোগবাদী হতে পারে। কিন্তু ইফতারের সেই সময় ঘনিয়ে আসতে দেখা গেল, রোজাদার তার ইফতারের সামান্য খাবারে শরিক করল অপর রোজাদার ভাইকে। ইফতারের এ সামান্য খাবারটুকু পরম তৃপ্তি সহকারে গ্রহণ করল রোজাদাররা মিলে। প্রেম-প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, স্বার্থত্যাগের এ সবক ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মানব সভ্যতার কত বড় সম্পদ, তা জ্ঞানীদের উপলব্ধি করার বিষয়। বস্তুত এ মুহূর্তে যারা অপর দ্বীনি ভাইয়ের জন্য নিজের স্বার্থকে ত্যাগ করতে পেরেছে; অন্যের প্রয়োজনকে নিজেরটার চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে; ক্ষুধা পিপাসার চরম মুহূর্তে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে; সর্বোপরি যে কোনো চরম সংকটময় মুহূর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে, তাদের জন্যই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত অফুরন্ত সওয়াব ও কল্যাণ।

শেয়ার করুন