২৩ মে ২০১৮
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন থেকে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্য চলছে। দিন দিন সেই চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। সিসিটিভি স্থাপনসহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও সেই চক্রের লাগাম টেনে ধরতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। এবার ওই চক্র ট্রেনের জাল টিকিট তৈরি করে নেমেছে নতুন প্রতারণায়।
সর্বশেষ ১৪ মে রাতে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের জাল টিকিট নিয়ে কুলাউড়া স্টেশনে ঘটে চরম হট্টগোল। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এক ঘন্টা ট্রেন আটকে রাখেন। জাল টিকিট তৈরির সাথে স্টেশনে কর্মরতদের যোগসাজস রয়েছে।
সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু চিকিৎসা নিতে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট করতে ওইদিন সকালে স্টেশনে আসেন।
রফিকুল ইসলাম রেনুসহ ৪ জন যাত্রী কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পাননি। এসময় কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালোবাজারি টিকিট বিক্রেতা মখদ্দছ আলী তার কাছে ৪ টি টিকিট রয়েছে বলে জানায়।
এসময় রফিকুল ইসলাম রেনু কাউন্টারে দায়িত্বরত রাজুকে নিয়ে ট্রেনের ‘গ’ বগির প্রথম শ্রেণি বার্থ এর ৪ টি টিকিট অতিরিক্ত দামে মখদ্দছ আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেন। রাতে নির্ধারিত সময়ে তারা ট্রেনে উঠে আসনে গিয়ে দেখেন তাদের আসনে অন্য যাত্রীরা বসে আছেন।
এসময় আসনে বসা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কথাকাটি শুরু হলে ট্রেনে দায়িত্বরত পরিচালক (গার্ড) এসে দেখতে পান উভয়ের টিকিটের হুবহু মিল রয়েছে। পরে তার সন্দেহ হলে কাউন্টারে গিয়ে টিকিটের নাম্বার মিলিয়ে দেখতে পান রফিকুল ইসলাম রেনুসহ ৪ যাত্রীর টিকিট জাল।
এদিকে ঘটনা জানতে পেরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ব্বিুব্ধ হয়ে ট্রেন আটকে রাখেন। পরে যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে কুলাউড়া স্টেশন থেকে এক ঘন্টা বিলম্বে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এ বিষয়ে কালোবাজারি মখদ্দছ আলী বলেন, ‘আমি এক যাত্রীর কাছ থেকে টিকিট ক্রয় করে রফিকুল ইসলাম রেনুসহ অন্যদের কাছে বিক্রি করেছি।’
টিকিট কাউন্টারের হেড ক্লার্ক বুরহান উদ্দিন রাজু জানান, সারা বাংলাদেশে টিকিট কালোবাজারি হয়, কুলাউড়াতেও হচ্ছে। এই টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করেননি দাবি করে বলেন, ‘মখদ্দছ আলী কোথায় থেকে এনে বিক্রি করেছেন তা আমার জানা নেই।’
কুলাউড়া স্টেশন মাষ্টার মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি রেলওয়ে থানার ওসিকে বলেছি কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।’
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ‘একই বগির একই টিকিট দেখে আমি হতবাক হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে ট্রেন ১ ঘন্টা বিলম্ব করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।’
(আজকের সিলেট/২৩ মে/ডি/এমকে/ঘ.)