১৯ মে ২০১৮
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট টার্মিনাল ছেড়েই বেপরোয়া রূপ নেয় এনা পরিবহন। বনানী-কাকলী ও বিমানবন্দর সড়কে এনার হিংস্র গতির কবলে পড়ে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন অসংখ্য মানুষ।
সিলেট থেকে ঢাকা যেতে গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এই ৬ জেলার সড়কপথ পেরুতে হয়। এ পথে শুধু বেপরোয়া গতি নয়, ওভারটেক করতে না দিলে সামনের গাড়ির চালককে শাসান এনার চালক।
এমন একটি ঘটনা দেখা শনিবার দুপুর ১২টায় সিলেট টার্মিনাল থেকে হুমায়ুন রশীদ মোড় পৌঁছা মাত্র সামনের শেরপুরগামী একটি পিকাপ গাড়ি সাইড দিতে দেরি করে। এরপর ওই পিকাপ চালকের ওপর চড়াও হন এনার চালক।
পরে এনা গাড়ির চালক ঔ পিকাপ গাড়িটিকে পিছন হতে ধাক্কা দেয়।এতে পিকাপ গাড়ির চালক গুরুতর আহত হয়।পরে পিকাপ গাড়ির চালক তাদের পিকাপ গাড়ির সমিতিতে অভিযোগ দিলে সমিতির সভাপতি এনার সিলেট দায়িত্বরত কমচারিকে ডেকে এনে ঐ ঘটনাটির সমাধান করে দেন।
তিনশ’ কিলোমিটারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এনা পরিবহনকে একটি গাড়িও ওভারটেক করতে পারেনা। এনা ওভারটেক করে যায় শত শত গাড়িকে। এর মধ্যে অন্তত অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক করে এনা।
এনা পরিবহনের মালিক এনায়েতুল্লাহ সরাসরি কথোপকথনে বলেছিলেন, তার গাড়ি মহাসড়কে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের উপরে চলে না। স্পিড লিমিট করে দেয়া আছে। ঈদের সময় এই লিমিট ভেঙ্গে গেলেও এখন আবার তিনি স্পিড ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে বেঁধে দিয়েছেন।
কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা গেলো ঘণ্টায় ১০০শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত তুলেছেন চালক। তবে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এনা পরিবহনের নন এসি বাস আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ টার্ন নিয়েছে। এনার নন এসি বাসগুলোর ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
এনা পরিবহনের গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেশ কয়েকবার সিট থেকে ছিটকে পড়েছেন এমন ঘটনাও ঘটছে। পেছনের যাত্রীরা ভয়ে অনেক সময় চিৎকার করে উঠছেন তবু এনার চালক সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছেন না।
ঢাকা থেকে সিলেটের পথে নরসিংদীর বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে এনাকে বরাবরের মতো ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলতে দেখা গেছে। এমনকি এসব স্থানে এনার বেপরোয়া গতি দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যান খোদ বাসের যাত্রীরাও।
এদিকে ট্রিপের চাপে ভালো নেই এনা পরিবহনের বাস চালকরাও। ট্রিপ এত বেশি যে বিশ্রামের তেমন কোনো সুযোগ পান না তারা। অথচ দুর্ঘটনা রোধে দূরপাল্লার বাস চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এনার মালিক এনায়েতুল্লাহ চালকদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত বাসা ভাড়া নিয়েছেন বলে দাবি করলেও বাস্তবের সঙ্গে মিল দেখা যায়নি কথার।
এনার একজন বাস চালক দিনে ঘুমানো ও বিশ্রাম বাবদ সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় পান না বলে জানা গেছে। এনার বাসগুলো দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ার এটাও একটি বড় কারণ।
(আজকের সিলেট/১৯ মে/ডি/এসটি/ঘ.)