২০ মে ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে মৌলভীবাজারে। গত বছর বন্যায় ফসল তলিয়ে গেলেও এবার তেমনটি হয়নি। বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। তবে শঙ্কিত নায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে। মৌলভীবাজারে এখনো সরকারিভাবে শুরু হয়নি। ফলে কম দামে মধ্যসত্ব ভোগীদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন জেলার কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২ হাজার হেক্টর বেশী বোরো চাষাবাদ হয়েছে মৌলভীবাজারে। এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ১২ হেক্টর। সে হিসেবে চাল আসবে দুই লাখ ছয় হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের চালের বাজারে যুক্ত হবে।
বাম্পার উৎপাদনের পরেও কৃষকের সেই আনন্দ নেই। এ বছর প্রকৃতি কৃষকদের সাথে বিরুপ আচরণ করেনি। বোরোর তুলার আগ মুহুর্তে ব্লাস্ট রোগ এবং বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা কৃষকদের তেমন ভোগান্তিতে ফেলতে পারেনি। কিন্তু ফসল ভালো হলেও তা বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা।
মৌলভীবাজার জেলায় দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকির অবস্থান। হাওর অঞ্চলে আগেভাগেই সরকারের ধান কেনার সিদ্ধান্ত থাকলেও মৌলভীবাজারে এখনো সরকারি ভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়নি। কৃষকরা স্থানীয়ভাবে ধান বিক্রি করতে সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে যোগাযোগ করছেন। সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার হাওর এলাকায় ধান শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কথা বিবেচনা করে সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয় শুরু করেছে। এদিকে মৌলভীবাজার হাওর অধ্যুষিত জেলা সত্ত্বেও এ জেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ের নির্দেশনা এখনো আসেনি। সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি হিসেবে ২৬ টাকা কেজি ধরে এক মন ধানের দাম ১০৪০ টাকা। কিন্তু বাজারে এক মন ধান ৫০০/৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একজন কৃষকের এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারের দামে তাদের খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ধান চাষের খরচের সিংহভাগ কৃষকে ধান তোলার পরপরই তা বিক্রি করে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু সরকারি ভাবে ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় মৌলভীবাজারে কৃষকরা দিনমজুরের টাকাসহ দেনার টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
জেলার কাওয়াদিঘী হাওড় পাড়ের কৃষক রমিজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক জানালেন, সার বীজসহ বোরো আবাদের যাবতিয় খরচ দেনা পরিশোধ করতে তারা প্রতি মণ ধান ৫০০/৬০০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ধান ব্যবসায়ী জানালেন, যত দিন সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু না হবে তত দিন তারা কম দামে ধান কিনতে পারবেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী জানান, মৌলভীবাজারে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা আসেনি। এজন্য আমরা ধান ক্রয় শুরু করতে পারিনি। লক্ষ্যমাত্রাও জানানো হয়নি। ক্রয়ের নির্দেশনা পেলেই ধান ক্রয় শুরু করে দিব।এবছর সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে ২৬ টাকা।
(আজকের সিলেট/২০ মে/ডি/কেআর/ঘ.)