২৭ মে ২০১৮


কোরআন তেলাওয়াতের উৎকৃষ্ট সময়

শেয়ার করুন

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : আজ রবিবার রমজান রহমতের ঝর্ণাধারার দশম দিন। রমজান হচ্ছে পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। কোরআন পঠন-পাঠন ও কোরআনের আলোয় জীবন সাজানোর মাস। আল্লাহ বলেন, রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। (সুরা বাকারা : ১৮৫)।
রমজান মাসে সারা বিশ্বে মসজিদে মসজিদে কোরআনের সুমধুর সুর ধ্বনিত হয়। প্রতিটি মুসলিম বছরের যে কোনো সময়ের তুলনায় কোরআন তেলাওয়াতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। যারা কোরআন পড়তে পারেন, তারা অন্তত একটি খতম দেন এ মাসে। সবাই অন্তত ইমামের পেছনে কোরআন শোনার খতম করেন। আবহমানকালের বাঙালি নারী রমজানে সকালে-দুপুরে কোরআন পড়েন। একাধিক খতম করেন। ২৭ রমজানে ঘটা করে খতম করা হয়।
মাদরাসা বোর্ডের তথ্য মতে, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার হাফেজে কোরআন তৈরি হচ্ছেন। বাংলাদেশের হাফেজরা সারা বিশ্বে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন। এরা অনেকেই পশ্চিমের সংখ্যালঘু মুসলিম দেশগুলোর বড় বড় মসজিদে তারাবি পড়াচ্ছেন। হাফেজদের কোরআন মুখস্থ অক্ষুণœ রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে রমজানের তারাবি। এ শুধু এ যুগের কথা নয়। বোখারির হাদিসে রয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে প্রত্যেক বছর রমজান মাসে একবার পুরো কোরআন পেশ করতেন, পুনরাবৃত্তি করতেন। অবশেষে রাসুল (সা.) এর মৃত্যুর বছর তিনি সেটা দুইবার পেশ করেন, যাতে তা রাসুলের হৃদয়ে স্থায়ী ও স্থির হয়ে যায় এবং পাশাপাশি বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এমনটি করেছেন।’ (বোখারি : ৪৯৯৮)।
তেমনি সালাফে সালেহিন তথা আমাদের নেককার পূর্বসূরিরা রমজান মাসে সালাতে ও সালাতের বাইরে কোরআন বেশি বেশি তেলাওয়াত করতেন। ইমাম যুহরি (রহ.) রমজান মাস আগমন করলে বলতেন, ‘এটা তো শুধু কোরআন তেলাওয়াত ও মানুষকে খাবার খাওয়ানোর মাস।’ এ মাস আগমন করলে ইমাম মালেক (রহ.) হাদিস পাঠ, ইলমি মজলিস পরিত্যাগ করতেন এবং হাদিসের পা-ুলিপি থেকে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। কাতাদা (রহ.) সর্বদা প্রতি সপ্তাহে একবার কোরআন খতম করতেন। আর রমজানে প্রতি তিন দিনে একবার খতম করতেন এবং রমজানের শেষ ১০ দিন প্রতিদিন এক খতম করে পড়তেন। ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) রমজানে প্রতি তিন রাতে কোরআন খতম করতেন এবং শেষ ১০ রাতের প্রতি দুই রাতে খতম করতেন। আসওয়াদ (রহ.) প্রতি মাসেই দুই রাতে পুরা কোরআন পাঠ করতেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) রমজানে ৪০ খতম করতেন। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের বিশ্বখ্যাত আলেম ও গবেষক সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর আম্মাও রমজানে বহু খতম কোরআন পড়তেন।
আমরাও প্রত্যেকেই চেষ্টা করব বেশির চেয়ে বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে। যারা তেলাওয়াত নিয়মিত করি, চেষ্টা করব অর্থ বুঝতে। যারা এখনও শুদ্ধ করে কোরআন পড়তে পারি না, রমজানের এ সুবর্ণ সুযোগে তা শিখে নেয়ার চেষ্টা করব। রাসুল (সা.) এর বাণী আমাদের প্রত্যেকের জন্যই পাথেয়। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যিনি কোরআন শিক্ষা করেন এবং অন্যকে শিক্ষা দেন।’ (বোখারি : ৫০২৭)। আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পার না যে, সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে দুইটি আয়াত জানবে অথবা পড়বে; এটা তার জন্য দুইটি উটের তুলনায় উত্তম। আর তিনটি আয়াত তিনটি উট থেকে উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উট থেকে উত্তম। আর (শুধু উটই নয়, বরং একই সঙ্গে) সমসংখ্যক উট লাভ করা থেকেও তা উত্তম হবে।’ (মুসলিম : ৮০৩) ।

শেয়ার করুন