১৪ মে ২০১৮


সিলেট প্রেসক্লাবে প্রাণের স্পন্দন

শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী : সিলেট প্রেসক্লাবে এলে প্রাণের স্পন্দন ফিরে পাই। ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সাল পযর্ন্ত এখানে ছিলাম । শ্রদ্ধেয় বোরহান উদ্দীন খান, হারুনুজ্জামান চৌধুরী, মুক্তাবিস-উন-নূর, আব্দুল মালিক চৌধুরী তখন ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রচন্ড কৌতূহল এবং জানার আগ্রহ নিয়ে আমরা অগ্রজদের কাছে আসতাম। তারা আমাদের উৎসাহিত করতেন এমন কিছু লিখতে, যেটা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করবে, তাদের ধরে রাখবে। আমরাও মনে করতাম সাংবাদিকতার মানেই হচ্ছে মানুষকে নতুন কিছু দেয়া। মৌলিক সাংবাদিকতার জন্য যে নৈপুণ্য দরকার সে বিষয়ে মনোযোগ ও পরিশ্রম দুটিই আমাদের মাঝে ছিল।

ক’দিন আগে সাধারণ সম্পাদক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সিলেট এলে যেন প্রেস ক্লাবে বেড়াতে আসি। কথা দিয়েছিলাম আসবো। আজ দুপুরে গিয়ে মুগ্ধ হলাম। সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ সহ নতুন নেতৃত্ব ক্লাব ভবনকে মনোরম করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মনের খোরাক জোগায় এমন সব অনুষ্ঠানাদি করে চলেছেন। সিলেটের শত বছরের সাংবাদিকতার ইতিহাস রচিত হচ্ছে।

গেল সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বললেন, আমরা মনে করি একটু উৎসাহ, একটু অনুপ্রেরণা আমাদের এ প্রজন্মকে নতুন নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহস যুগাবে। সিলেট প্রেসক্লাব শুধু উৎসাহ প্রদান নয়, জ্ঞানের পথে আমাদের প্রজন্মকে হাত ধরে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত।

সভাপতি ইকরামুল কবির বহুমুখি কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্লাবকে একটি গতিশীল এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট বলে জানালেন।

তারুণ্যের জোয়ারে ভাসছে সিলেট প্রেসক্লাব। উপস্থিত কয়েকজন মেধাবী তরুণ সাংবাদিকের সাথে কথা হল। তারা বললেন, আগের তুলনায় সাংবাদিকদের এখন অনেক বেশি স্টোরি তৈরি করতে হয়। অনেক বেশি সৃষ্টিশীল তারা। দায়সারা গোছের কাজ যারা করেছেন, তারা আর সামনের সারিতে নেই। নতুনরা অনেক সময়, মনোযোগ এবং পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে আসছে।

জাতীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে এখন বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বেড়েছে। ফলে উচ্চ শিক্ষিত তুরুনেরা সাংবাদিকতায় আসতে উৎসাহ পাচ্ছেন।সিলেট প্রেসক্লাব তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছে। এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।

ছোট শহর, প্রতিদিন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেয়ার মত সাবজেক্ট পাওয়া কঠিন হয় বলে জানালেন এক তরুন।সংবাদের বিষয় নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টির ক্ষেত্রে একজন বিবিসি সাংবাদিকের কাজের উদাহরন টানলে তিনি বেশ খুশি হলেন। বিষয়টি ছিল… একটি রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে সেই রাস্তার মধ্যে অনেক স্টোরি খুঁজে পাওয়া যায়। রাস্তায় ময়লার পরিমাণ, পার্ক করার সুবিধা, নতুন গাড়ির সংখ্যা, ট্রাফিক পুলিশ, অফিসে সিগারেট খাওয়া নিষেধের ফলে কফির দোকান ধুমপানরত লোকজনের আধিক্য, রাস্তায় ভিক্ষুক, নতুন বাড়ি-ঘর তৈরি ইত্যাদি।

লন্ডনে গিল্ডহল ইউনিভার্সিটিতে ইন্ফরমেশন টেকনোলজি ও সাংবাদিকতা বিষয়ে অধ্যয়নকালে নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে অনেক আলোচনা হতো। যদিও বাংলাদেশে এসবে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। তবু সত্যতা, সূক্ষ্মতা, বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য, পক্ষপাতহীনতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সাধারণ উপাদান হিসেবে সবখানে প্রযোজ্য। সাংবাদকিতার নৈতিকতা বিষয়ে বিশেষ করে ইউরোপীয় বিধিতে যে কোন সংবাদে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ এবং শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা নিয়ে বৈষম্যমূলক বিষয়েরও অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। ইউরোপীয় নৈতিকতার বিধিতে সকল সংবাদপত্র ইনডিপেন্ডেন্ট প্রেস স্ট্যান্ডার্টস অর্গানাইজেশনের বিধি মেনে চলতে বাধ্য এবং তা যুক্তরাজ্যেও প্রচলিত। এতে জনগণের গোপনীয়তাকে সম্মান দেয়া এবং নিখুঁতভাবে কাজ নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। সিলেট প্রেসক্লাব তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এধরনের বিষয়াদি যোগ করতে পারেন।

আমরা সকলেই জানি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা । এ পেশার প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অধিকাংশ সচেতন মানুষের । একাজে যেমন রয়েছে ঝুঁকি, তেমন রয়েছে সম্মান ও রোমাঞ্চ। অপসাংবাদিকতা বাদ দিলে যেটুকু থাকে তার সবটুকুই আত্মতৃপ্তির জন্য যথেষ্ট।

(লেখক : সাংবাদিক)

শেয়ার করুন