১৩ মে ২০১৮
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের কাছে সাবেক পাবলিক লাইব্রেরির সামনের একটি প্রচীন ‘শিশু গাছ’ অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে পরিবেশবাদীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
খোয়াই থিয়েটারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথি রায় জানান, পৌর পাঠাগারের লাইব্রেরিয়ানের উপস্থিতিতে শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে গাছটি কাটা হয়।
সরকারি গাছ কাটতে হলে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় কিন্তু অনুমোদন এবং নিলাম ছাড়াই গাছটি এভাবে কাটা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অনেক মানুষ গাছের নিচে বসে আড্ডা দিত। তিনি নিজেও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আড্ডা দিতেন। গাছটি কেটে ফেলায় অনেক কষ্ঠ পেয়েছেন।
পৌর পাবলিক পাঠাগারের লাইব্রেরিয়ান মধুসূধন চক্রবর্র্তী জানান, গাছটি মরা এবং যেকোন সময় ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই তিনি গাছটি কাটিয়েছেন। মরা গাছ হওয়ায় অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেননি।
সরকারি বৃন্দাবন কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাষ চন্দ্র দেব জানান, শিশু গাছের পাতা নভেম্বর ডিসেম্বরে ঝরে যায়। তিন মাস পর আবার পাতা গজায়। কোন গাছ জীবিত না মৃত তা পরীক্ষা করে জানতে হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, হবিগঞ্জের সাবেক পাবলিক লাইব্রেরি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানে এক সময় প্রাচীন এই শিশু গাছটিসহ একটি ফোয়ারা ছিল। এখান থেকে পাবলিক লাইব্রেরি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এই গাছটির নিচে বসে যুবকরা আড্ডা দিত কয়েক প্রজন্ম ধরে। এভাবে দিবালোকে একটি প্রাচীন গাছ কেটে ফেলা কারও কাম্য নয়।
হবিগঞ্জ পৌর পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মাহমুদল কবীর মুরাদ জানান, তার কাছ থেকে কেউ গাছ কাটার অনুমোদন নেয়নি। তিনি গাছ কাটার বিষয়টি অবগত নন।
(আজকের সিলেট/১৩ মে/ডি/কেআর/ঘ.)